তরুণীরা কেনো আইএসে যোগ দিচ্ছেন- এর নেপথ্যে কী?

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ মাঝে-মধ্যেই খবর বের হচ্ছে উঠতি বয়সের তরুণীরা ইসলামী স্টেট অর্থাৎ আইএসে যোগ দিচ্ছে। এবার তিন বাংলাদেশী বংশদ্ভুত তরুণীর আইএসে যোগ দেওয়ার খবর এসেছে। কিন্তু তরুণীরা আইএসে যোগ দেওয়ার নেপথ্যে আসলে কী রয়েছে?

ISO And young girl

সংবাদ মাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের ৩ জন মুসলিম কিশোরী গোপনে সিরিয়ার উদ্দেশে রওনা হয়। তারা ইসলামপন্থী জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস) এ যোগ দিতে দেশ ছেড়েছে বলে ধারণা করা হয়। এই ঘটনার পর শুধু যুক্তরাজ্য নয়, পশ্চিমা বিশ্ব খানিকটা নড়েচড়ে বসেছে। এর আগেও ইউরোপ হতে আইএসে নারীদের যোগ দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, বিভিন্ন দেশ হতে এ পর্যন্ত অন্তত ৫৫০ জন নারী আইএসে যোগ দিয়েছে।

এখন সবার মনেই প্রশ্ন উঠেছে, নারী, বিশেষ করে অল্পবয়সী মুসলিম মেয়েদের আইএস কেনো টানছে? আসলে কীসের মোহে তারা আইএসে যোগ দিচ্ছে? বিভিন্ন সূত্রে যেসব তথ্য পাওয়া যায় তা বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলো আইএস কর্মী সংগ্রহের কাজে অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা রাখছে। মেয়েদের প্রলুব্ধ করতে জোরা ফাউন্ডেশন নামে তাদের একটি প্ল্যাটফর্মও রয়েছে। মূলত এটির মাধ্যমে নারীদের বিভিন্ন টিপস, ভ্রমণবিষয়ক পরামর্শ, রান্না রেসিপি দিয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়ে থাকে। এমনও দেখা গেছে, কোনো কোনো মেয়ে ইন্টারনেটে আইএসের বর্বরতার চিত্র দেখে ‘রোমাঞ্চ’ অনুভব করে থাকেন। আবার ১৯ বছর বয়সী মার্কিন কন্যা শ্যানন কনলি ইন্টারনেটে এক পুরুষ আইএস সদস্যের প্রেমেও পড়ে যান। তারপর তাকে বিয়ে করতে সিরিয়ায় পাড়ি দিতে চেয়েছিলেন শ্যানন কনলি নামের সেই মেয়েটি। কিন্তু তা সফল হয়নি, কারণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে ধরা পড়ে যান। শ্যানন কনলিকে চার বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালত।

ISO And young girl-2

সারাবিশ্বেই বিশেষ করে আইএস এ নারীদের যোগসাজস নিয়ে গবেষণা করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের ডিউক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারন্যাশনাল হিউম্যান রাইটস ক্লিনিকের পরিচালক জেন হুকারবাই বলেছেন, ‘মেয়েরা নানা কারণে আইএসে যোগ দিচ্ছেন। তারমধ্যে রয়েছে সামাজিক বিচ্ছিন্নতা বোধ ও অসমতার অনুভূতি এবং দুঃসাহসিক কিছু করার উচ্চাকাঙক্ষাও অনেকটা দায়ি এর জন্য। তবে এর ব্যতিক্রমের মধ্যে রয়েছে যেমন কিছু কিছু ক্ষেত্রে প্রেম-সংক্রান্ত কারণে কিছু মেয়ে আইএসে যোগ দেন। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই নতুন ধরনের রাষ্ট্র গঠনের আহ্‌বান এবং সেখানে নিজেদের ধর্মচর্চার সুযোগ তৈরিতে আইএসের ডাকে সাড়া দিয়ে এসব নারী আইএসে যোগ দিচ্ছেন।’

জেন হুকারবাই আরও বলেছেন, ‘আইএসে যোগ দেওয়া নারীরা অল্পবয়সী মেয়েদের কর্মী হিসেবে সংগ্রাহকের কাজে সব সময় যুক্ত থাকেন। আর তাই তারা আইএসের প্রচারযন্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে কাজ করেন।’

সংবাদ মাধ্যম বলেছে, এ বিষয়ে লন্ডনের কিংস কলেজের ডিফেন্স স্টাডিজের প্রভাষক ক্যাথেরিন ব্রাউন মত দিয়েছেন যে, ‘নারীরা আইএসে যোগ দিচ্ছেন, কারণ তাদের সম্মুখে নতুন ধরনের ‘কাল্পনিক রাজনীতি’ উপস্থাপন করা হচ্ছে। তাদের জিহাদে অংশ নিয়ে নতুন ইসলামিক রাষ্ট্র গঠনের অংশীদার হতে নানাভাবে বোঝানো হচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘পশ্চিমা বিশ্ব মুসলমান এবং নাগরিক হিসেবে এসব নারীর মধ্যে একাত্মতা, লক্ষ্য এবং গুরুত্বপূর্ণ হওয়ার বোধ তৈরি করতে ব্যর্থ হয়েছে। আর সে কারণে ইন্টারনেটে সক্রিয় মুসলিম নারীরা জিহাদে আগ্রহী হয়ে উঠছেন নানাভাবে।’

সংবাদ মাধ্যমের খবরে আরও বলা হয়েছে, দ্য ইউনিভার্সিটি অব ম্যাসাচুসেটস লোয়েলের সেন্টার ফর টেররিজম অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের অধ্যাপক মিয়া ব্লুম এ বিষয়ে বলেছেন, ‘আইএস এসব মেয়ের কাছে প্রকৃতপক্ষে ‘আকাশকুসুম কল্পনা’ বিক্রি করছে। আইএসে যুক্ত হলে ক্ষমতায়ন ঘটবে, একটি অসাধারণ জীবন পাওয়া যাবে, জীবনে অর্থবহ কিছু করা সম্ভব হবে কল্পনা এবং অনুভূতির এমন মিশেল থেকেই মূলত মেয়েরা আইএসে যোগ দিচ্ছেন।’

গবেষকদের এসব তথ্য উপাত্ত দেখে বোঝা যাচ্ছে আসলেও আইএসে কম বয়সী মেয়েদের যোগ দেওয়ার বেশ কিছু কারণ রয়েছে। তারা যেগুলো তথ্য-উপাত্ত দিচ্ছেন তা থেকে বোঝা যাচ্ছে এসব কারণেই কম বয়সী মেয়েরো আইএসের মতো একটি জঙ্গী সংগঠনে যোগ দিচ্ছেন। তাছাড়া মেয়েদের মধ্যে আরও একটি জিনিস সব সময় বিদ্যমান আর সেটি হলো টাকা ও ক্ষমতায়ন। স্বাধীনভাবে চলাচল ও অর্থ এই দুটি জিনিস মেয়েদের বেশি তাড়িত করে থাকে।

Advertisements
আপনি এটাও পছন্দ করতে পারেন
Loading...