শাকিব-বুবলীর ‘অহংকার’ ছবি নকলের অভিযোগ!

এবার নকলের প্রশ্নবানে জর্জরিত হয়েছে শাকিব-বুবলীর ‘অহংকার’

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ শাকিব-বুবলীর ‘অহংকার’ ছবিটি নকলের অভিযোগ উঠেছে! বিভিন্ন সময় এসব অভিযোগের সত্যতাও নাকি মিলেছে গুরুতরভাবেই- এমন খবর পাওয়া গেছে।

ঢাকাই চলচ্চিত্রে নকলের অভিযোগ প্রায়ই ওঠে। তবে এবার নকলের প্রশ্নবানে জর্জরিত হয়েছে শাকিব-বুবলীর ‘অহংকার’ ছবিটি। সংবাদ মাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, বিভিন্ন সময় ওঠা এসব অভিযোগের সত্যতাও নাকি মিলেছে। বলা হয়েছে, নিজের চোখকেও অবিশ্বাস্য মনে হয়েছে কিছু কিছু সিনেমার নকল দৃশ্য দেখার পর!

ঢাকাই চলচ্চিত্রে দৃশ্য নকলের সেই পুরানো অভ্যাস যেনো জেঁকে বসেছে নতুন করে। বরং এটি দিনে দিনে বেড়েই চলেছে।

এবার নকলের প্রশ্নবানে জর্জরিত হয়ে পড়েছে বর্তমান সময়ের সবচেয়ে আলোচিত জুটি শাকিব-বুবলীর ‘অহংকার’! এবারের ঈদে মুক্তি পেয়েছে ‘অহংকার’ চলচ্চিত্রটি। মাত্র ক’দিন না যেতেই ছবিটির বিরুদ্ধে কাহিনী, সংলাপ এমনকি ফ্রেমেও হুবহু মিল পাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। আবার দৃশ্যধারণও করা হয়েছে নাকি কন্নড় প্রদেশের সিনেমা-‘অটো সংকর’ সিনেমার আদলেই! এসব তথ্য উঠে এসেছে বাংলাদেশের একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলের এক প্রতিবেদনে।

ভারতের কন্নড় প্রদেশের ‘অটো সংকর’ চলচ্চিত্রটি নকল করেই নাকি নির্মাণ করা হয়েছে বাংলাদেশের ‘অহংকার’ চলচ্চিত্রটি! সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগটি হলো, ছবিটি কোনো রকম কপিরাইট নিয়ে নির্মিত হয়নি! তবে অন্যদিকে চলচ্চিত্রটি আপাদমস্তকই নকল বলেই অভিযোগ উঠেছে। ২০০৫ সালে ভারতের কন্নড় প্রদেশে মুক্তি পায় ‘অটো সংকর’ নামে একটি চলচ্চিত্রটি। এটি নির্মাণ করেন ডি রাজেন্দ্র বাবু।

তারপর ‘অটো সংকর’ চলচ্চিত্রটি তামিল ভাষায় ডাবিং করা হয়। সেইসঙ্গে নামেরও পরিবর্তন করা হয়। নতুন করে নাম রাখা হয় ‘আনাভাকারী’। শুধু এখানেই শেষ নয়, এরপর হিন্দি ভাষাতেও চলচ্চিত্রটির ডাবিং করা হয়। সেখানেও ছবিটির নাম পরিবর্তন করা হয়। আবার ছবিটির নাম রাখা হয় ‘শিল্পা দ্য বিগ ডন’। একইভাবে মালায়লাম ভাষায় সিনেমাটি ডাবিং করে নাম রাখা হয়েছে ‘শারাপ্পা সুন্দারী’। ‘অটো সংকর’ সিনেমার মতোই ‘অহংকার’ চলচ্চিত্রে কেন্দ্রীয় চরিত্রে রয়েছেন একজন অটোচালক।

‘অহংকার’ সিনেমায় মূল চরিত্রটিতে অভিনয় করেছেন শাকিব খান। অপরদিকে শিল্পা শেঠির ভূমিকায় অভিনয় করেছেন শবনম বুবলী। ‘অটো সংকর’ চলচ্চিত্রটি ভারতের বিভিন্ন ভাষায় ডাবিং করলেও বাংলাদেশ পুরোপুরি নকল করেছে এই সিনেমার গল্প। শুধু বদলে গেছে সিনেমায় মূল দুই চরিত্র এবং কলাকুশলী ও লোকেশনগুলো।

‘অহংকার’ ছবিটি পরিচালনা করেছেন শাহাদাৎ হোসেন লিটন। প্রসঙ্গটি নিয়ে নির্মাতা লিটনের কথার যেনো ভিন্ন সুর। তিনি এসব কিছুই জানেন না বলে দাবি করেছেন। তিনি জানান যে, চলচ্চিত্রটির কাহিনী লিখেছেন এই সিনেমার প্রযোজক আব্দুল মাবুদ কাওসার নিজে। তবে পরিচালনার পাশাপাশি চিত্রনাট্য লিখেছেন পরিচালক শাহাদাৎ হোসেন লিটন নিজেই।

শাহাদাৎ হোসেন লিটন বলেছেন, ‘এটা আমার প্রযোজকের গল্প। আমি ঠিক সেভাবেই নির্মাণ করেছি। কোনো ছবির সঙ্গে মিলে গেলে সেটি আমার অগোচরেই হয়েছে।’ ঈদে সারাদেশের ১১৯টি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে শাকিব-বুবলি অভিনীত ‘অহংকার’। ‘অহংকার’ ছবির গল্প লিখেছেন আবদুল্লাহ জহির বাবু।

আপনি এটাও পছন্দ করতে পারেন
Loading...