দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ আপনি মনে করুন, ঠিক এই মুহূর্তে আপনার মাথার ওপর বায়ুর মধ্যদিয়ে সরু আর্দ্রতার বিশেষ একটি ধারা প্রবাহিত হচ্ছে। এমন সরু আর্দ্র বায়ুর প্রবাহকেই বায়ুমণ্ডলীয় নদী বলে।

এমন বায়ুমণ্ডলীয় নদী আমাজন নদীর চেয়েও বেশি পানি বহন করতে পারে। বায়ুমণ্ডলীয় নদীতে তরল পানির পরিবর্তে জলীয় বাষ্পও থাকে। এই বায়ুমণ্ডলীয় নদী স্থলভাগে পৌঁছালে গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়াও দেখা যায়। তখন এই বাষ্প ঘনীভূত হয়ে মেঘে পরিণত হয়। তখন প্রচুর পরিমাণে বৃষ্টি কিংবা তুষারপাতও ঘটতে পারে। একটি শক্তিশালী বায়ুমণ্ডলীয় নদী যে কোনো পর্বতমালাকে কয়েক ফুট তুষারে ঢেকে দিতে পারে। সেইসঙ্গে বেশ তীব্র বন্যাও সৃষ্টি করতে পারে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, সান্তা বারবারার বিজ্ঞানীরা এক গবেষণা করে জানিয়েছেন, এইসব বায়ুমণ্ডলীয় নদী তাদের ঐতিহাসিক গতিপথ ধরে এখন চলছে না। তারা উভয় মেরুর দিকেই সরে যাচ্ছে। বিষয়টিকে একটি অপ্রত্যাশিত পরিবর্তনও বলা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক জে লি সম্প্রতি বায়ুমণ্ডলীয় অবস্থা নিয়ে আরেক বিজ্ঞানী কুইংহুয়া ডিংয়ের সঙ্গেও কাজ করছেন। গবেষক লি বলেছেন, বায়ুমণ্ডলীয় নদী উভয় গোলার্ধে মেরুর দিকে সরে যাচ্ছে। এতে উচ্চ অক্ষাংশে ভারি বৃষ্টি এবং ঝড় তৈরি হচ্ছে। এতে করে বিশ্বজুড়ে বৃষ্টির ধরনকে নতুন করে তৈরি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। বিভিন্ন জলবায়ু মডেল হতে এমন পরিবর্তনের পূর্বাভাস সম্পর্কে তেমন কোনো তথ্য জানা যাচ্ছে না। বিজ্ঞানীরা ইউরোপীয় সেন্টার ফর মিডিয়াম-রেঞ্জ ওয়েদার ফরকাস্টসের ডেটা ব্যবহার করে অতীতের বায়ুমণ্ডলীয় অবস্থা সম্পর্কেও জানার চেষ্টা করছেন। বিজ্ঞানীরা স্যাটেলাইট, আবহাওয়া বেলুন এবং বিভিন্ন স্থল স্টেশনের ১৯৭৯ সাল হতে এ পর্যন্ত সময়ের তথ্যাদি পর্যবেক্ষণ করছেন।
বিজ্ঞানীরা বিভিন্ন ডেটা মডেল একত্র করে প্রতি ঘণ্টার বায়ুমণ্ডলীয় তথ্যও সংগ্রহ করেন। বিজ্ঞানীরা তথ্য বিশ্লেষণের পরই অস্বাভাবিকভাবে উচ্চ জলীয় বাষ্প পরিবহনের করিডরও শনাক্ত করেন। এইসব করিডরকে বায়ুমণ্ডলীয় নদী চিহ্নিত করেন। প্রায় ৪০ বছরের ডেটা বিশ্লেষণ করার পরই দেখা যাচ্ছে যে, এইসব বায়ুমণ্ডলীয় নদী মেরুর দিকে কয়েক ডিগ্রি অক্ষাংশ সরেও গেছে। সাধারণভাবে বলতে গেলে, ঝড়ের গতিপথ লস অ্যাঞ্জেলেস এবং সান ফ্রান্সিসকোর মধ্যবর্তী দূরত্বের সমানমতো সরেও গেছে।
প্রথমে বিজ্ঞানীদের ধারণা ছিল যে, মানুষের সৃষ্ট কারণে জলবায়ুর উষ্ণতার কারণে এইসব বায়ুমণ্ডলীয় নদীর স্থান পরিবর্তন হচ্ছে। তথ্য বলছে যে, সমুদ্রের অবস্থার পরিবর্তনের কারণে বায়ুমণ্ডলীয় নদীর স্থানও বদলে যাচ্ছে। গ্রীষ্মমণ্ডলীয় পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরের তাপমাত্রার ভিন্নতা মূলত বায়ুমণ্ডলীয় নদীপ্রবাহকে প্রভাবিত করছে। বিজ্ঞানী ডিং বলেছেন, ‘আমাদের ধারণা, এমন পরিবর্তনের জন্য শুধু মনুষ্যসৃষ্ট প্রভাবই মূল কারণ নয়।’
পৃথিবীর সামগ্রিক উষ্ণতাও বাড়ছে। এতে করে বৃহৎ আকারের বায়ুস্রোত পরিবর্তিত হচ্ছে। আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে বিভিন্ন জেট স্ট্রিম মেরুর দিকেও সরে যাচ্ছে। এতে বায়ুমণ্ডলীয় নদী জেট স্ট্রিম অনুসরণ করেও সরে যাচ্ছে। এতে করে যেসব জায়গায় সাধারণত শীতকালে বায়ুমণ্ডলীয় নদী থেকে নিয়মিতভাবে বৃষ্টি হতো, সেখানে এখন খরা দেখা যাচ্ছে। আবার উচ্চ অক্ষাংশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিরল ঝড়ও দেখা যাচ্ছে। এইসব তথ্য সম্প্রতি ‘সায়েন্স অ্যাডভান্সেস’ জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। তথ্যসূত্র: আর্থ ডটকম।
>>>>>>>>>>>>>>
ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org
This topic is so relevant right now. Thanks for the timely post.