দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তার বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তি শিল্পের বিনিয়োগের ধরন বদলে দিচ্ছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে প্রকাশিত বিভিন্ন আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, অনেক প্রতিষ্ঠান এখন প্রচলিত সফটওয়্যার কেনা কিংবা আপগ্রেডের চেয়ে এআই-সক্ষম সার্ভার, উচ্চক্ষমতার চিপ, ডেটা সেন্টার এবং নেটওয়ার্ক অবকাঠামো নির্মাণে বেশি অর্থ ব্যয় করছে। যে কারনে কিছু বড় সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানের বিক্রয় প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশার তুলনায় কমে গেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে বিশ্বের বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো এমন এক প্রতিযোগিতায় নেমেছে যে, যেখানে উন্নতমানের এআই মডেল চালাতে বিপুল কম্পিউটিং ক্ষমতা প্রয়োজন। সেই কারণে এনভিডিয়ার মতো প্রতিষ্ঠানের উন্নত এআই চিপ, দ্রুতগতির মেমোরি ও বিশেষায়িত সার্ভারের চাহিদা বেড়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠানের আইটি বাজেটের একটি বড় অংশ এখন এই অবকাঠামো তৈরিতে ব্যয় হচ্ছে।
এই পরিবর্তনের একটি বড় প্রভাব পড়ছে সফটওয়্যার শিল্পে। আগে যেখানে প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন সফটওয়্যার লাইসেন্স, ক্লাউড সেবা কিংবা ডিজিটাল রূপান্তর প্রকল্পে নিয়মিত বিনিয়োগ করতো, সেখানে এখন তারা অগ্রাধিকার দিচ্ছে এআই চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় হার্ডওয়্যার সংগ্রহতে। যে কারণে সফটওয়্যার খাতের কিছু কোম্পানি প্রত্যাশিত রাজস্ব অর্জনে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে।
এদিকে এআই ব্যবহারের বিস্তার সাইবার নিরাপত্তার গুরুত্বও অনেকটা বাড়িয়ে দিয়েছে। নতুন প্রজন্মের এআই-নির্ভর আক্রমণ, স্বয়ংক্রিয় ফিশিং ও উন্নত ম্যালওয়্যার মোকাবিলায় অনেক প্রতিষ্ঠান নিরাপত্তা খাতে অতিরিক্ত বিনিয়োগ করছে। যে কারণে আইটি বাজেটের আরেকটি বড় অংশ নিরাপত্তা অবকাঠামো শক্তিশালী করার দিকেও চলে যাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিবর্তন সাময়িক হলে প্রযুক্তি শিল্পের ভবিষ্যৎ কাঠামোকে দীর্ঘমেয়াদে প্রভাবিত করবে। আগামী কয়েক বছরে যেসব প্রতিষ্ঠান এআই অবকাঠামো, ক্লাউড কম্পিউটিং ও উচ্চক্ষমতার প্রসেসিং সুবিধায় দ্রুত বিনিয়োগ করতে পারবে, মূলত তারাই প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকবে। একইসঙ্গে সফটওয়্যার কোম্পানিগুলোকেও তাদের পণ্যকে আরও বেশি এআই-নির্ভর এবং স্বয়ংক্রিয় করতে হবে।
প্রযুক্তি শিল্প এখন একটি নতুন রূপান্তরের মধ্যদিয়ে যাচ্ছে। পূর্বে সফটওয়্যার ছিল মূল বিনিয়োগের কেন্দ্র, এখন সেই জায়গা দখল করছে এআই অবকাঠামো। এই পরিবর্তন ভবিষ্যতের প্রযুক্তি বাজার, কর্মসংস্থান ও উদ্ভাবনের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।
>>>>>>>>>>>>>>
ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org