The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

চ্যাটবটের যুগ পেরিয়ে ‘এআই এজেন্ট’: এবার কাজ করবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কিংবা এআইয়ের ব্যবহার এতোদিন মূলত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া, লেখা তৈরি, ছবি বানানো কিংবা তথ্য বিশ্লেষণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল।

চ্যাটবটের যুগ পেরিয়ে ‘এআই এজেন্ট’: এবার কাজ করবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা 1

তবে প্রযুক্তি বিশ্বে এখন বড় পরিবর্তন ঘটছে। এআই শুধু মানুষের নির্দেশের অপেক্ষায় থাকবে না; বরং নিজেই কোনো কাজের পরিকল্পনা তৈরি করে ধাপে ধাপে সেটি সম্পন্ন করার দিকে এগোচ্ছে। প্রযুক্তি দুনিয়ায় এই নতুন ব্যবস্থাকে বলা হচ্ছে এআই এজেন্ট কিংবা ‘এজেন্টিক এআই’।

সাধারণ চ্যাটবটকে কোনো কাজ করতে বললে সেটি সাধারণত একটি উত্তর দেয়। তবে এআই এজেন্টকে একটি লক্ষ্য দিলে সেটি লক্ষ্য পূরণের জন্য একাধিক ধাপ নির্ধারণ করতে পারে, প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার কিংবা ডিজিটাল টুল ব্যবহার করতে পারে ও এক কাজ শেষ করে পরবর্তী কাজ শুরু করতে পারে। ২০২৬ সালে প্রযুক্তি খাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবেই এআই এজেন্টকে দেখা হচ্ছে।

ধরা যাক, একজন ব্যবসায়ীকে বাজার বিশ্লেষণ করতে হবে। প্রচলিত এআইকে আলাদা আলাদাভাবে তথ্য খুঁজে দিতে হতে পারে। তবে ভবিষ্যতের এআই এজেন্টকে শুধু বলা যেতে পারে- ‘গত এক মাসের বাজার বিশ্লেষণ তৈরি করো।’ এরপর এআই নিজে তথ্য সংগ্রহ, তুলনা, বিশ্লেষণ ও প্রতিবেদন তৈরির মতো কয়েকটি ধাপ সম্পন্ন করতে পারবে।

ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে এর সম্ভাবনা আরও বড়। গ্রাহকের প্রশ্নের উত্তর দেওয়া, বিক্রয় তথ্য বিশ্লেষণ, কর্মীদের জন্য প্রতিবেদন তৈরি, সফটওয়্যার ব্যবস্থাপনা বা নিয়মিত প্রশাসনিক কাজের একটি অংশ এআই এজেন্টের মাধ্যমে পরিচালিত হতে পারে।

তবে এর সঙ্গে ঝুঁকিও বাড়ছে। একটি সাধারণ চ্যাটবট ভুল তথ্য দিলে মানুষ সেটি যাচাই করতে পারে। কিন্তু কোনো এআই এজেন্ট যদি নিজে সফটওয়্যার ব্যবহার, ফাইল পরিবর্তন বা অনলাইন সিস্টেমে প্রবেশের অনুমতি পায়, তাহলে ভুল সিদ্ধান্তের প্রভাব অনেক বড় হতে পারে।

সাইবার নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক সময় এআই ব্যবস্থার স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাইবার আক্রমণের বিভিন্ন ধাপ সম্পন্ন করার সক্ষমতা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ বাড়ছে। এমনকি আর্থিক স্থিতিশীলতা নিয়েও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সতর্কতা তৈরি হয়েছে।

এই কারণে ভবিষ্যতের এআই ব্যবস্থায় শুধু ‘কতটা বুদ্ধিমান’- এটি গুরুত্বপূর্ণ হবে না; বরং কী করতে পারবে, কী করতে পারবে না, কোন কাজের জন্য অনুমতি পাবে ও ভুল করলে কীভাবে মানুষ নিয়ন্ত্রণ নেবে- এইসব বিষয়ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

এআই এজেন্টের বিকাশের কারণে কর্মক্ষেত্রে মানুষের কাজের ধরনও পরিবর্তিত হতে পারে। কিছু পুনরাবৃত্তিমূলক কাজ কমে যেতে পারে, আবার নতুন ধরনের কাজ তৈরি হবে। যে কারণে ভবিষ্যতে এআইকে প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখার পরিবর্তে মানুষ কীভাবে এআইকে নিরাপদ এবং কার্যকর সহকারী হিসেবে ব্যবহার করতে পারে, সেটিই বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

>>>>>>>>>>>>>>

ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে

মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।

লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-

১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।

২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।

সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-

১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।

২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।

৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।

৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।

৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।

৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।

৭. ত্বকে র‌্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।

রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :

১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।

২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।

এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

অপরদিকে

জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:

১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।

২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।

৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।

৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।

৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।

৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।

৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।

৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
Loading...
bn_BDBengali