দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ ডায়াবেটিসের রোগীদের কী শরীরচর্চা করার কোনও নির্দিষ্ট সময় রয়েছে? এই বিষয়টি আজ জেনে নিন চিকিৎসকের কাছ থেকে।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে শরীরচর্চা জরুরি। শুধু ওষুধ খেয়ে বা ডায়েট মেনে চললে ডায়াবেটিস বশে থাকে না। তারসঙ্গে শরীরচর্চা করাও জরুরি। তবে অনেকেরই প্রশ্ন থাকে কখন শরীরচর্চা করলে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকবে?
এন্ডোক্রিনোলজিস্ট সতীনাথ মুখোপাধ্যায় বলেছেন, ‘প্রকৃতপক্ষে শরীরচর্চা করার কোনও নির্দিষ্ট সময় নেই। যখনই হোক করলেই হলো। তবে সুগারকে বশে রাখতে হলে শরীরচর্চা করতেই হবে।’
ডাঃ মুখোপাধ্যায়ের কথা অনুযায়ী জানা যায়, সপ্তাহে অন্তত ৫ দিন ৩০ মিনিট করে শরীরচর্চা করতে হবে। অর্থাৎ, সারা সপ্তাহে ১৫০ মিনিট শরীরচর্চা করলে নিয়ন্ত্রণে থাকবে রক্তে শর্করার মাত্রা। শুধু তাই নয়, এতে রক্তচাপ ওস্বাভাবিক থাকবে ও হৃদরোগের ঝুঁকিও এড়ানো যাবে।
সাধারণত হাঁটা, দৌড়ানো, সাঁতার কাটা কিংবা সাইকেল চালানোর মতো অ্যাক্টিভিটি করলেই শরীর ফিট থাকবে বলে জানিয়েছেন ডাঃ মুখোপাধ্যায়। তবে সবার পক্ষে এই ধরনের শরীরচর্চা করা সম্ভব নয়। অনেক বয়স্ক মানুষ রয়েছেন, যাদের সুগার, প্রেশার রয়েছে ও হাঁটাচলা করতেও সমস্যা। তাহলে তারা কী করবেন?
ডাঃ মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘এখন অনেক ধরনের শরীরচর্চা রয়েছে। যাদের পক্ষে ওয়াকিং, সুইমিং, সাইকেলিং-এর মতো অ্যাক্টিভিটিগুলো করা মোটেও সম্ভব নয়, তারা আর্ম সুইং করতেই পারেন।’ অর্থাৎ, এক জায়গায় দাঁড়িয়েই হাত ঘোরানো। যদিও আজকাল চেয়ারে বসেও শরীরচর্চা করা সম্ভব।
অনেকেই মনে করেন যে, ভারি খাবার খাওয়ার পর শরীরচর্চা করলে সুগার লেভেল নিয়ন্ত্রণে থাকে। এই ধারণাটি কতোটা ঠিক? ডাঃ মুখোপাধ্যায় বলেছেন, ‘যাদের রাতে ঘুমের সমস্যা বিদ্যমান, তারা ডিনার শেষে ১০-১৫ মিনিট হাঁটাহাঁটি করতেই পারেন। এতে সুগার লেভেল নিয়ন্ত্রণে থাকে ও রাতে ঘুমও ভালো হয়।’ এ ছাড়াও গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস ধরা পড়লে এই উপায় ভালো কাজ দেয় বলেও জানিয়েছেন চিকিৎসক। এছাড়াও দিনের যে কোনও সময় ৩০ মিনিট এক্সারসাইজ় করলে ভয় নেই ডায়াবেটিসের বাড়বাড়ন্ত হওয়ার। তথ্যসূত্র: এই সময়।
>>>>>>>>>>>>>>
ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org