দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ শিশুদের শৈশব আর সুরক্ষিত নয়। শিশুদের দেহে ১১১টি ক্ষতিকারক রাসায়নিক পদার্থের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। বিষয়টি ভাবাচ্ছে চিকিৎসকদের একাংশকেও।

বর্তমান সময় সুস্থ জীবন যাপনের পথে একাধিক বাধা সৃষ্টি হয়েছে। স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে অল্প বয়স থেকে নানা রোগ ও সমস্যা দেখা দিচ্ছে। এমতাবস্থায় একটি গবেষণায় দেখা গেছে, শিশুদের দেহে পরিবেশ থেকে নানা ক্ষতিকারক রাসায়নিকের প্রবেশ ঘটছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা বেড়েছে ও উপযুক্ত পদক্ষেপ না নিলে অগণিত শিশুর ভবিষ্যৎ কঠিন হতে যাচ্ছে।
কী দাবি গবেষকদের?
সম্প্রতিক সময় ‘এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড টেকনলজি’ জার্নালে এই সংক্রান্ত একটি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়। সেখানে দাবি করা হয় যে, ২ থেকে ৪ বছর বয়সি শিশুদের দেহে ১১১ ধরনের ক্ষতিকারক রাসায়নিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। অর্থাৎ স্কুলে প্রবেশের পূর্বেই শিশুদের দেহে এই রাসায়নিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে, যা চিকিৎসকদের কপালে আরও চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।
পদ্ধতি
এই সিদ্ধান্তে আসার পূর্বে ২০১ জন শিশু ও তাদের মায়েদের মূত্রের নমুনা সংগ্রহ করেছিলেন গবেষকরা। ২০১০ হতে ২০২১ সালের মধ্যে এই সমস্ত নমুনা সংগ্রহ করা হয়। গবেষক ইউসি ডেভিস বলেছেন, ‘‘আমরা জানতে পেরেছি যে, শিশুদের ক্ষেত্রে ক্ষতিকারক রাসায়নিক পদার্থের প্রভাব খুবই বেশি। এটাকে বলা যায় আশঙ্কাজনক। কারণ হলো, শৈশবকাল যে কোনও ব্যক্তির ক্ষেত্রেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’’ তিনি আরও দাবি করেছেন যে, এই রাসায়নিকগুলোর প্রভাবে শিশুর বেড়ে ওঠার ক্ষেত্রে সমস্যাও তৈরি হতে পারে। এমনকি, শিশু কোনও জটিল রোগে আক্রান্তও হতে পারে।
রাসায়নিকের প্রকারভেদ
গবেষকরা জানিয়েছেন যে, ১১১টির মধ্যে অন্তত ৫ জন শিশুর মধ্যে ৯৬টি রাসায়নিক পাওয়া যায়। ৫০ শতাংশের বেশি শিশুর মধ্যে ৪৮ প্রকারের রাসায়নিক পাওয়া গেছে। অপরদিকে, ৯০ শতাংশ শিশুর মধ্যে ৩৪ প্রকারের রাসায়নিক পাওয়া গেছে।
এতে কী কী সমস্যা হতে পারে
অল্প বয়সে দেহে ক্ষতিকারক রাসায়নিকের প্রবেশ ঘটলে শিশুর হরমোন, মস্তিষ্ক ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্টও হতে পারে। জানা গেছে, খাবার, পানীয়, শ্বাস-প্রশ্বাস ও স্পর্শের মাধ্যমে শিশুর দেহে রাসায়নিকের প্রবেশও ঘটছে। মূলত আমেরিকার শিশুদের উপর গবেষণাটি করা হলেও, চিকিৎসকরা জানিয়েছেন যে, বর্তমান সমাজে আরও একাধিক দেশের শিশুদেরও এই রকমই কঠিন পরিস্থিতির শিকার হতে হচ্ছে- যা কাম্য হতে পারে না। তথ্যসূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা অনলাইন।
>>>>>>>>>>>>>>>>>>
করনা সম্পর্কে নতুন করে জরুরী সতর্কতা
আসুন আমরা আবার মাস্ক পরা শুরু করি। কারণ করোনা তথা COVID-Omicron XBB আগের ভ্যারিয়েন্টগুলোর তুলনায় ভিন্ন ও বিপজ্জনক। এটি সহজে শনাক্তও হয় না, তাই সবার মাস্ক পরা অত্যন্ত জরুরি।
১. COVID-Omicron XBB এর নতুন উপসর্গগুলো:
i) কাশি নেই।
ii) জ্বর নেই।
বেশিরভাগ উপসর্গ হলো—
iii) অস্থিসন্ধিতে ব্যথা।
iv) মাথাব্যথা।
v) গলাব্যথা।
vi) পিঠে ব্যথা।
vii) নিউমোনিয়া।
viii) ক্ষুধা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়া।
২. এই ভ্যারিয়েন্টটি ডেল্টার চেয়ে ৫ গুণ বেশি বিষাক্ত এবং মৃত্যুহারও বেশি।
৩. উপসর্গগুলো খুব অল্প সময়েই মারাত্মক আকার ধারণ করে এবং কখনও কখনও কোনো স্পষ্ট উপসর্গ না দেখিয়েই অবস্থা খারাপ হতে শুরু করে।
৪. তাই আরও বেশি সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
এই ভ্যারিয়েন্টটি নাসোফ্যারেঞ্জিয়াল (নাকের গভীর অংশ) অঞ্চলে পাওয়া যায় না, বরং সরাসরি ফুসফুসের “উইন্ডো” অংশে আঘাত করে এবং নিউমোনিয়ার লক্ষণ দেখা দেয়।
৫. কিছু রোগীর মধ্যে জ্বর বা ব্যথা না থাকলেও এক্স-রে করলে মৃদু নিউমোনিয়ার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। এছাড়া নাক দিয়ে নেয়া স্যাম্পলে (সোয়াব) পরীক্ষায় নেগেটিভ ফল আসছে, যা পরীক্ষায় ভুল রিপোর্ট (ফলস নেগেটিভ) এর সংখ্যা বাড়াচ্ছে। এ কারণে এই ভাইরাসকে ‘ধূর্ত’ বলা হচ্ছে।
এর মানে হলো— এটি সহজেই ছড়িয়ে পড়ে, সরাসরি ফুসফুসে সংক্রমণ ঘটায়, ভাইরাল নিউমোনিয়া সৃষ্টি করে এবং তীব্র শ্বাসকষ্ট তৈরি করে। এই কারণে COVID-Omicron XBB এত বেশি ছোঁয়াচে ও প্রাণঘাতী হয়ে উঠেছে।
৬. যতটা সম্ভব ভিড় এড়িয়ে চলুন, খোলা জায়গাতেও অন্তত ১.৫ মিটার দূরত্ব বজায় রাখুন, সঠিকভাবে মাস্ক পরুন, এবং নিয়মিত হাত ধুয়ে ফেলুন—even যদি কাশি বা হাঁচি না থাকে।
এই COVID-Omicron XBB “ওয়েভ” প্রথম COVID-19 মহামারির চেয়েও ভয়াবহ।
সতর্কতা, সচেতনতা ও বৈচিত্র্যময় সুরক্ষা ব্যবস্থাই আমাদের রক্ষা করতে পারে।
✅ দয়া করে এই বার্তাটি বন্ধু ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে শেয়ার করুন।
✅ শুধুমাত্র নিজের কাছে রেখে দেবেন না।
✅ যত বেশি সম্ভব লোককে জানিয়ে দিন।
ঘরের বাইরে গেলে অবশ্যই মাস্ক পরুন এবং নিজেকে সুরক্ষিত রাখুন।
>>>>>>>>>>>>>>
ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org