দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ অ্যাপলের নতুন আইফোন ১৭ সিরিজটি বাজারে এসেছে ১৯ সেপ্টেম্বর। তবে বাজারে আসার পরপরই নতুন মডেলের আইফোন নিয়ে ব্যবহারকারীদের উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

ব্যবহারকারীরা অভিযোগ করেছেন, নতুন মডেলের আইফোনে অ্যাপল ইন্টেলিজেন্স নাকি ঠিকমতো কাজ করছে না। সমস্যাটি সব ব্যবহারকারীর ক্ষেত্রে না হলেও আইফোন এয়ারসহ সিরিজের বিভিন্ন মডেলেই এই সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে অনেককেই।
অ্যাপল ইন্টেলিজেন্স ব্যবহার করে যেসব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সুবিধাগুলো পাওয়া যায়, তারমধ্যে রয়েছে স্মার্ট সাজেশন এবং কনটেক্সচুয়াল ইনফো। তবে ভুক্তভোগী ব্যবহারকারীরা জানিয়েছেন যে, সুবিধাগুলো ব্যবহার করতে গেলে সিস্টেম বারবার নতুন করে ডাউনলোড করার কথা বলছে। এতে করে ভোগান্তিতে পড়েছেন তারা।
অ্যাপলের নিজস্ব ফোরামে বিষয়টি নিয়ে একাধিক অভিযোগও জমা পড়েছে। অনেকেই লিখেছেন, তারা জেনমোজি এবং ইমেজ প্লেগ্রাউন্ড ব্যবহার করতে পারছেন না। আবার কেও কেও জানিয়েছেন, নতুন ফোন চালুর পর প্রথম দিকে অ্যাপল ইন্টেলিজেন্স স্বাভাবিকভাবেই কাজ করলেও সিরির পুরোনো অ্যানিমেশন বেছে নেওয়ার পর হতে আর এই সুবিধাটি চালু হচ্ছে না।
এদিকে ব্যবহারকারীদের অভিযোগের বিষয়ে অ্যাপল জানিয়েছে যে, সমস্যার বিষয়টি সম্পর্কে অ্যাপলও অবগত রয়েছে। শীঘ্রই সফটওয়্যার আপডেটের মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান করা হবে। তাই এই ত্রুটির সমাধান না হওয়া পর্যন্ত ব্যবহারকারীদের সেটিংসটি অ্যাপ পুনরায় চালু, অ্যাপল ইন্টেলিজেন্সসংক্রান্ত অ্যাপগুলো পুনরায় ইনস্টলসহ প্রয়োজনে নতুন করে অ্যাপল আইডিতে সাইন ইন করার পরামর্শ দিয়েছে এই প্রতিষ্ঠানটি।
সম্প্রতি আইফোনের একাধিক নতুন মডেলের বিরুদ্ধে আরো একটি অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী ব্যবহারকারীরা জানিয়েছেন যে, আইফোন ১৭ প্রো এবং ১৭ প্রো ম্যাক্স খুব সহজেই আঁচড় পড়ে যাচ্ছে। তবে অ্যাপলের দাবি হলো, এগুলো মূলত আসল আঁচড় নয়, এটি ‘ম্যাটেরিয়াল ট্রান্সফার’। তবে জনপ্রিয় ইউটিউবার জেরিরিগএভরিথিং জানিয়েছেন যে, প্রো মডেলের ক্যামেরা আইল্যান্ডের কোনাগুলোতে অ্যানোডাইজড কোটিং সমানভাবে না দেওয়ার কারণেই সহজেই আঁচড়ের মতো দাগ দেখা যাচ্ছে। তথ্যসূত্র : ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।
>>>>>>>>>>>>>>
ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org