দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ ২০২৫ সালকে ব্রিটেনের দক্ষিণ উপকূলে “অক্টোপাসের বছর” বলে বর্ণনা করেছে পরিবেশ ও বন্যজীবী বিজ্ঞানীরা।

সাধারণত একা একা বিচ্ছিন্নভাবে মিলিত হওয়া এই সৌন্দর্যপূর্ণ সমুদ্রপ্রাণী এই বছর এমন অনবদ্য পরিমাণে দেখা গেছে যা ১৯৫০র পর আর কখনো হয়নি। ব্রিটেনের কর্নওয়াল থেকে ডেভন পর্যন্ত বিস্তৃত উপকূলে স্থানীয় পর্যায়ে প্রায় ২৩০,০০০টিরও বেশি মেডিটেরেনিয়ান অক্টোপাস ধরা পড়েছে, যা স্বাভাবিকের প্রায় ১৩ গুণ বেশি গণনা করা হয়েছে। -The Independent
এই বিপুল আগমনকে একটি “অক্টোপাস ব্লুম” বলা হচ্ছে- যা জলবায়ুর পরিবর্তনের কারণে সমুদ্রের উষ্ণতার বৃদ্ধির প্রতিক্রিয়া। অত্যন্ত মৃদু শীত এবং অস্বাভাবিকভাবে উষ্ণ বসন্তের কারণে সামুদ্রিক টেম্পারেচার বৃদ্ধি পেয়েছে এবং অক্টোপাস নিয়ে বেড়ে যাওয়া লার্ভা বাঁচতে পেরেছে। এতে প্রাণীগুলো দলবদ্ধ আচরণ, mating interactions এবং পানির নিচে চলাফেরা পর্যবেক্ষিত হয়েছে, যা তাদের স্বভাবের চেয়ে ভিন্ন একটি আচরণ। -The Indian Express
বিজ্ঞানীরা এটিকে সমুদ্রজগতে বিশ্ব উষ্ণায়ন এবং জলবায়ুর পরিবর্তনের ইঙ্গিতপূর্ণ ঘটনা হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। তবে অনেকের মতে, এই বৃদ্ধির অপ্রত্যাশিত প্রভাব যেমন- মাছ ও অন্যান্য সামুদ্রিক জীবের খাদ্য চেইনে পরিবর্তন ঘটাতে পারে। এই ঘটনাটি শুধু একটি আশ্চর্যজনক প্রাকৃতিক “phenomenon” নয়, একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে জীববৈচিত্র্যে কী কী চরম অস্থিরতা দেখা দিতে পারে তার একটি বাস্তব উদাহরণও।
>>>>>>>>>>>>>>
ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org