The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

এই ঠাণ্ডার সময় হাপানি বাড়লে করণীয় কী?

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ শীত মৌসুমে অনেক মানুষের মধ্যেই হাপানি বা হাঁপানির সমস্যা বেড়ে যায়। বিশেষ করে যাদের আগে থেকেই হাঁপানি, অ্যালার্জি বা শ্বাসতন্ত্রের দুর্বলতা রয়েছে, তাদের জন্য এই সময়টি বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।

এই ঠাণ্ডার সময় হাপানি বাড়লে করণীয় কী? 1

ঠাণ্ডা বাতাস, ধুলাবালি, কুয়াশা এবং সংক্রমণ- সব মিলিয়ে শীতকাল হাঁপানির প্রকোপ বাড়িয়ে দেয়। তাই এই সময়ে সচেতনতা ও সঠিক ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত জরুরি।

চিকিৎসকদের মতে, ঠাণ্ডা বাতাস সরাসরি শ্বাসনালীতে প্রবেশ করলে তা সংকুচিত হয়ে পড়ে, ফলে শ্বাস নিতে কষ্ট হয় এবং হাপানির আক্রমণ দেখা দেয়। বিশেষ করে ভোরবেলা ও গভীর রাতে হাপানি বাড়ার প্রবণতা বেশি। এ ছাড়া শীতে ভাইরাল সর্দি-কাশি বা ফ্লু হলে হাঁপানি আরও মারাত্মক আকার নিতে পারে।

শীতকালে হাপানি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রথমেই প্রয়োজন নিজেকে ঠাণ্ডা থেকে সুরক্ষিত রাখা। বাইরে বের হলে মুখ ও নাক ঢেকে রাখা জরুরি, যাতে ঠাণ্ডা বাতাস সরাসরি শ্বাসনালীতে না ঢোকে। উষ্ণ পোশাক পরা এবং রাতে গরম কাপড় ব্যবহার করলে শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক থাকে, যা হাঁপানি নিয়ন্ত্রণে সহায়ক।

পরিবেশ পরিষ্কার রাখা আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ করণীয়। শীতে ঘরের দরজা-জানালা বেশি বন্ধ থাকায় ধুলা, ছত্রাক ও অ্যালার্জেন জমে যায়, যা হাপানির ঝুঁকি বাড়ায়। নিয়মিত ঘর পরিষ্কার করা, বিছানা-বালিশ রোদে দেওয়া এবং ধুলাবালি জমতে না দেওয়া প্রয়োজন। ধোঁয়া, সিগারেট, আগরবাতি বা তীব্র গন্ধযুক্ত জিনিস থেকেও দূরে থাকতে হবে।

খাদ্যাভ্যাসের দিকেও বিশেষ নজর দেওয়া দরকার। শীতে অনেকেই ঠাণ্ডা খাবার, আইসক্রিম বা খুব ঠাণ্ডা পানি পান করেন, যা হাঁপানি বাড়াতে পারে। এ সময় কুসুম গরম পানি, আদা-মধু, তুলসী পাতা বা হালকা গরম স্যুপ উপকারী হতে পারে। পাশাপাশি পুষ্টিকর খাবার খেলে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ে এবং সংক্রমণের ঝুঁকি কমে।

হাঁপানির রোগীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত ইনহেলার বা ওষুধ ব্যবহার করা। অনেকেই শীতকালে উপসর্গ কম থাকলে ওষুধ বন্ধ করে দেন, যা বিপজ্জনক। বরং শীতের শুরু থেকেই নিয়মিত ওষুধ গ্রহণ করলে হঠাৎ আক্রমণের ঝুঁকি কমে। প্রয়োজনে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করে ওষুধের মাত্রা সমন্বয় করা উচিত।

শীতকালে হাপানি বাড়লে অবহেলা না করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। জীবনযাত্রায় সচেতনতা, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, সঠিক খাদ্যাভ্যাস এবং নিয়মিত চিকিৎসাই পারে শীতের সময় হাঁপানিকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে।

>>>>>>>>>>>>>>

ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে

মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।

লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-

১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর

২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।

সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-

১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।

২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।

৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।

৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।

৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।

৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।

৭. ত্বকে র‌্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।

রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :

১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।

২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।

এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

অপরদিকে

জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:

১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।

২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।

৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।

৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।

৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।

৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।

৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।

৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
Loading...
bn_BDBengali