দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ বর্তমান সময়ে ইন্টারনেট ছাড়া দৈনন্দিন জীবন প্রায় অচল। পড়াশোনা, অফিসের কাজ, অনলাইন মিটিং, বিনোদন কিংবা স্মার্ট ডিভাইস ব্যবহারের জন্য আমরা সবাই ওয়াইফাইয়ের ওপর নির্ভরশীল।

তবে অনেক সময় দেখা যায়, ওয়াইফাই সংযোগ থাকলেও ইন্টারনেটের গতি ঠিকমতো পাওয়া যাচ্ছে না। ধীরগতির ওয়াইফাই কাজের গতি কমিয়ে দেয় এবং বিরক্তির সৃষ্টি করে। কিছু সহজ নিয়ম মেনে চললে ওয়াইফাই স্পিড অনেকটাই স্থিতিশীল রাখা সম্ভব।
রাউটারের সঠিক অবস্থান নিশ্চিত করা জরুরি। ওয়াইফাই রাউটার এমন জায়গায় রাখতে হবে, যেখানে সিগন্যাল সহজে পুরো ঘরে ছড়িয়ে পড়তে পারে। দেয়াল, আলমারি বা ধাতব বস্তু রাউটারের আশেপাশে থাকলে সিগন্যাল দুর্বল হয়ে যায়। তাই রাউটার ঘরের মাঝামাঝি উঁচু স্থানে রাখলে ভালো কভারেজ পাওয়া যায়।
রাউটার ও মডেম নিয়মিত রিস্টার্ট করা উচিত। দীর্ঘ সময় একটানা চালু থাকলে রাউটারের কার্যক্ষমতা কমে যেতে পারে। সপ্তাহে অন্তত একবার রাউটার বন্ধ করে কয়েক মিনিট পর চালু করলে নেটওয়ার্ক রিফ্রেশ হয় এবং ইন্টারনেটের গতি কিছুটা বাড়ে।
রাউটারের ফার্মওয়্যার আপডেট রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেক সময় পুরোনো ফার্মওয়্যারের কারণে রাউটার ঠিকভাবে কাজ করে না। নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো আপডেটের মাধ্যমে বাগ ফিক্স এবং পারফরম্যান্স উন্নত করে। তাই নিয়মিত রাউটার সেটিংসে ঢুকে আপডেট আছে কি না তা যাচাই করা উচিত।
একসঙ্গে অতিরিক্ত ডিভাইস সংযুক্ত থাকলে ওয়াইফাই স্পিড কমে যেতে পারে। স্মার্টফোন, ল্যাপটপ, টিভি, ক্যামেরা বা স্মার্ট হোম ডিভাইস—সব মিলিয়ে বেশি ডিভাইস যুক্ত হলে ব্যান্ডউইথ ভাগ হয়ে যায়। প্রয়োজন না হলে অপ্রয়োজনীয় ডিভাইসগুলো ওয়াইফাই থেকে ডিসকানেক্ট রাখা ভালো।
আশপাশের ওয়াইফাই নেটওয়ার্কের কারণে ইন্টারফেয়ারেন্স হতে পারে। বিশেষ করে একই ফ্রিকোয়েন্সি চ্যানেলে অনেক রাউটার থাকলে গতি কমে যায়। রাউটারের সেটিংস থেকে চ্যানেল পরিবর্তন করে অপেক্ষাকৃত ফাঁকা চ্যানেল ব্যবহার করলে স্পিড উন্নত হতে পারে।
এ ছাড়াও দুর্বল বা পুরোনো রাউটার ব্যবহার করলেও স্পিড ঠিক থাকে না। অনেক সময় ইন্টারনেট প্যাকেজ অনুযায়ী রাউটার সক্ষম না হলে পুরো গতি পাওয়া যায় না। প্রয়োজনে আধুনিক ডুয়াল-ব্যান্ড বা উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন রাউটার ব্যবহার করা উচিত।
ওয়াইফাই স্পিড ঠিক রাখতে শুধু ভালো ইন্টারনেট সংযোগই যথেষ্ট নয়; সঠিক রাউটার ব্যবহার, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও সচেতন ব্যবহারেরও প্রয়োজন রয়েছে। এসব করণীয় মেনে চললে ঘরে বসেই দ্রুত এবং স্থিতিশীল ইন্টারনেট সেবা পাওয়া সম্ভব।
>>>>>>>>>>>>>>
ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org