দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ সাম্প্রতিক একাধিক গভীর সমুদ্র অভিযানে বিজ্ঞানীরা এমন সব সামুদ্রিক প্রাণীর সন্ধান পেয়েছেন, যাদের অনেকগুলোর অস্তিত্ব সম্পর্কে আগে কোনো ধারণাই ছিল না।

সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে কয়েক হাজার মিটার নিচের অন্ধকার অঞ্চলে পরিচালিত এই অভিযানে শত শত নতুন প্রজাতির প্রাণী ও অদ্ভুত জীবের সন্ধান মিলেছে।
গভীর সমুদ্র এমন একটি পরিবেশ, যেখানে সূর্যের আলো পৌঁছায় না। প্রচণ্ড চাপ, অত্যন্ত কম তাপমাত্রা এবং খাদ্যের সীমাবদ্ধতার মধ্যেও সেখানে প্রাণের অস্তিত্ব বিজ্ঞানীদের দীর্ঘদিন ধরেই বিস্মিত করে আসছে।
নতুন আবিষ্কৃত প্রাণীদের মধ্যে রয়েছে স্বচ্ছ দেহবিশিষ্ট মাছ, আলো উৎপাদনকারী অমেরুদণ্ডী প্রাণী, অদ্ভুত আকৃতির সামুদ্রিক স্পঞ্জ এবং আগে কখনও না দেখা ক্ষুদ্র জীব। কিছু প্রাণী নিজেদের শরীর থেকেই আলো তৈরি করতে পারে, যা শিকার ধরা কিংবা শত্রুর হাত থেকে বাঁচতে সাহায্য করে।
গবেষকরা বলছেন, এসব প্রাণীর জিনগত বৈশিষ্ট্য ভবিষ্যতে চিকিৎসাবিজ্ঞান, জীবপ্রযুক্তি এবং নতুন ধরনের ওষুধ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। অনেক সামুদ্রিক জীবের শরীরে এমন রাসায়নিক উপাদান রয়েছে, যা ক্যানসার বা সংক্রমণের চিকিৎসায় কাজে লাগতে পারে।
বিজ্ঞানীরা আরও সতর্ক করেছেন যে, গভীর সমুদ্রের খনিজ সম্পদ আহরণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এই অজানা বাস্তুতন্ত্র হুমকির মুখে পড়তে পারে। অনেক প্রজাতি সম্পর্কে জানার আগেই তারা বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তাই গবেষকদের দাবি, গভীর সমুদ্রকে শুধু সম্পদের ভাণ্ডার হিসেবে নয়, বরং পৃথিবীর জীববৈচিত্র্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে সংরক্ষণ করা উচিত। নতুন এই আবিষ্কার আবারও প্রমাণ করেছে যে, পৃথিবীর সবচেয়ে বড় রহস্যগুলোর অনেকটাই এখনও আমাদের নিজ গ্রহের সমুদ্রের গভীরে লুকিয়ে রয়েছে।
এই অভিযান দেখিয়ে দিয়েছে যে, প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে মানুষ যত গভীরে পৌঁছাচ্ছে, ততই প্রকৃতি নতুন নতুন বিস্ময় সামনে নিয়ে আসছে। এখনও পৃথিবীর বিশাল অংশ অনাবিষ্কৃত, আর সেখানেই হয়তো লুকিয়ে আছে ভবিষ্যতের আরও অসংখ্য চমক।
>>>>>>>>>>>>>>
ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org