দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ পৃথিবীর সবচেয়ে বড় রহস্যগুলোর অনেকটাই হয়তো আমাদের পায়ের নিচে নয়, বরং সমুদ্রের গভীরে লুকিয়ে আছে।

পৃথিবীর বিশাল অংশজুড়ে বিস্তৃত সমুদ্রের এমন একটি অঞ্চল রয়েছে, যেখানে সূর্যের আলো প্রায় পৌঁছায় না এবং যেখানে মানুষের সরাসরি উপস্থিতি অত্যন্ত সীমিত। সম্প্রতি ব্রাজিলের উপকূলের কাছাকাছি আন্তর্জাতিক জলসীমায় মাত্র দুই সপ্তাহের একটি সামুদ্রিক অভিযানে ৩১টি নতুন প্রজাতি শনাক্ত করে বিজ্ঞানীরা আবারও দেখিয়ে দিয়েছেন- পৃথিবীর সমুদ্র এখনও কতটা অজানা।
গবেষণাটি পরিচালিত হয় গবেষণা জাহাজ Falkor (too)-তে। আন্তর্জাতিক একটি দল এই অভিযানে অংশ নেয়। তাদের মূল লক্ষ্য ছিল সমুদ্রের ‘মিডওয়াটার’ অঞ্চল- অর্থাৎ সমুদ্রের একেবারে ওপরের সূর্যালোকিত স্তর এবং নিচের সমুদ্রতলের মধ্যবর্তী বিশাল জলরাশি। বিজ্ঞানীরা বলছেন যে, পৃথিবীর জীবন্ত পরিবেশের প্রায় ৯০ শতাংশ জায়গা এই বিশাল জলস্তরের সঙ্গে সম্পর্কিত হলেও এটি এখনও সবচেয়ে কম অনুসন্ধান করা অঞ্চলগুলোর একটি।
মাত্র দুই সপ্তাহে ৩১টি নতুন প্রাণীর সন্ধান পাওয়ার ঘটনাটি তাই বিশেষভাবে বিস্ময়কর। আবিষ্কৃত প্রাণীদের মধ্যে রয়েছে নয় ধরনের জেলিফিশ, সাত ধরনের সিফোনোফোর, ৭ ধরনের কম্ব জেলি, চার ধরনের লারভেসিয়ান, একটি অ্যাম্ফিপড, একটি গসামার ওয়ার্ম ও দুটি বিশাল আকারের এককোষী রাইজারিয়ান।
এর মধ্যে কয়েকটি প্রাণী দেখতে এতটাই অদ্ভুত যে, সাধারণ মানুষ প্রথম দেখায় এগুলোকে প্রাণী বলেই হয়তো চিনতে পারবেন না। বিশেষ করে জেলিফিশ ও সিফোনোফোরের কিছু প্রজাতি স্বচ্ছ শরীর, অদ্ভুত আলো ও সূক্ষ্ম অঙ্গপ্রত্যঙ্গ নিয়ে পানির মধ্যে ভেসে থাকে। আবার কিছু রাইজারিয়ান এককোষী হলেও খালি চোখে দৃশ্যমান হওয়ার মতো বড় হতে পারে।
এই অভিযানের আরেকটি চমকপ্রদ দিক ছিল প্রযুক্তির ব্যবহার। গবেষকরা ‘Squid’ নামে পরিচিত একটি ঘূর্ণনশীল confocal microscope ব্যবহার করেন। এর মাধ্যমে জাহাজের ওপরেই জীবন্ত ক্ষুদ্র সামুদ্রিক প্রাণীর কোষের ত্রিমাত্রিক গঠন পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হয়। সাধারণত এই ধরনের বিশ্লেষণের জন্য নমুনা সংগ্রহ করে গবেষণাগারে নিয়ে যেতে হয় এবং বিশেষ প্রক্রিয়ায় প্রস্তুত করতে হয়। কিন্তু নতুন প্রযুক্তির কারণে গবেষকেরা জীবন্ত অবস্থাতেই প্রাণীগুলোর কোষ কীভাবে একে অপরের সঙ্গে কাজ করছে, কীভাবে উপাদান বিনিময় করছে এবং কীভাবে দেহের কাঠামো তৈরি করছে-এইসব পর্যবেক্ষণ করতে পেরেছেন।
এই আবিষ্কার আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ সত্যের সামনে দাঁড় করিয়ে দেয়। মানুষ পৃথিবীর স্থলভাগের অনেক অঞ্চল সম্পর্কে বিস্তর জ্ঞান অর্জন করলেও সমুদ্রের বিশাল অংশ এখনও রহস্যে ঢাকা।
গবেষকদের মতে, রাতে সমুদ্রের এই মধ্যবর্তী স্তরের অনেক প্রাণী আরও ওপরে উঠে আসে খাবার সংগ্রহের জন্য। দিনের বেলায় তারা গভীরে লুকিয়ে থাকে। ফলে তাদের চলাচল সমুদ্রের কার্বন চক্রের ওপরও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
অর্থাৎ মাত্র দুই সপ্তাহের এই অভিযান শুধু ৩১টি নতুন প্রাণী আবিষ্কারের ঘটনা নয়। এটি মূলত পৃথিবীর সবচেয়ে বড় অথচ সবচেয়ে কম পরিচিত বাস্তুতন্ত্রের একটি নতুন জানালা খুলে দিয়েছে।
>>>>>>>>>>>>>>
ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org