দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ প্রশান্ত মহাসাগরের তলদেশে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ এবং রুপার মজুতের সন্ধান পেয়েছেন চীনা বিজ্ঞানীরা। ধাতু দু’টির এত বেশি ঘনত্বের সন্ধান অত্যন্ত বিরল বলেও জানিয়েছেন গবেষকরা।

গবেষকদের মতে, ওই এলাকায় খনিজ সম্পদের বড় অর্থনৈতিক মূল্য এবং খনন সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সমুদ্রের তলদেশে খনন নিয়ে বিতর্কও রয়েছে।
সিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়, চিংদাও ইনস্টিটিউট অব মেরিন জিওলজি এবং সাংহাই জিয়াও টং বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের যৌথ অভিযানে এই সন্ধান পাওয়া যায়। সমুদ্রতলের একটি হাইড্রোথার্মাল এলাকায় এইসব স্বর্ণ এবং রুপার মজুত পাওয়া গেছে। সেখানে ভূগর্ভের অত্যন্ত উত্তপ্ত এবং খনিজসমৃদ্ধ তরল সমুদ্রতলের ফাটল দিয়ে ওপরে উঠে আসে।
গবেষকরা সমুদ্রতলে শঙ্কু আকৃতির (ত্রিমাত্রিক) ৩টি বড় খনিজ স্তর কিংবা হাইড্রোথার্মাল সালফাইডের সন্ধান পেয়েছেন। সাধারণত এইসব স্তরে তামা, দস্তা এবং সিসার পাশাপাশি অল্প পরিমাণে স্বর্ণ ও রুপা থাকে। তবে এবার পাওয়া নমুনায় মূল্যবান এই দুই ধাতুর পরিমাণ অন্য ধাতুগুলোর তুলনায় অনেকটা বেশি। কিছু নমুনায় স্থলভাগের আকরিকের তুলনায়ও বেশি স্বর্ণ এবং রুপা পাওয়া গেছে।
প্রাথমিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রতি মার্কিন শর্ট টন আকরিকে স্বর্ণের ঘনত্ব সর্বোচ্চ ০.৪৫ ট্রয় আউন্স ও রুপার ঘনত্ব ৩৬.৩ ট্রয় আউন্স পর্যন্ত। কিছু নমুনায় প্রতি টন আকরিকে স্বর্ণের পরিমাণ ১৫.৪ গ্রাম ও রুপা ১ হাজার ২৭১ গ্রাম পর্যন্ত পাওয়া গেছে। গবেষণা দলের অন্যতম প্রধান বিজ্ঞানী সং শিজি বলেছেন, বিশাল এই সমুদ্রতলের খনন এলাকায় “অত্যন্ত উচ্চ অর্থনৈতিক মূল্য’ রয়েছে। গবেষকদের মতে, ওই অঞ্চলের বহু ধাতব সালফাইডের সম্ভাব্য মজুত বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রতলীয় খনিজ মজুতের সমপর্যায়েরও হতে পারে।
১০ আগস্ট শেনজেন থেকে চীনের গবেষণা জাহাজ “শিয়াং ইয়াং হং ১০’-এ করে ১৮ দিনের অভিযান শুরু হয়। এই সময় গবেষকরা সাবমার্সিবল ব্যবহার করে ৭ বার সমুদ্রতলে ডুব দেন। পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরের একটি ব্যাক-আর্ক বেসিনে অভিযান চালিয়ে তারা এই বিশাল হাইড্রোথার্মাল খনিজ এলাকার সন্ধান পেয়েছেন।
সামুদ্রিক চলাচলের তথ্য অনুযায়ী জানা যায়, অভিযানের সময় গবেষণা জাহাজটি তাইওয়ানের উত্তর এবং পূর্ব ও ফিলিপাইনের উত্তরের জলসীমা দিয়ে চলাচল করে।
চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে যে, খনিজের সন্ধান পাওয়া বেসিনটি চীনের একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চলের মধ্যেই অবস্থিত। তবে এর সুনির্দিষ্ট কোনো স্থানাঙ্ক প্রকাশ করা হয়নি।
>>>>>>>>>>>>>>
ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org