দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ অর্থায়নের ঘাটতির কারণে আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে গাজার ২০টিরও বেশি হাসপাতাল এবং স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ডিজেল সরবরাহ বন্ধ করে দেবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডাব্লিউএইচও)।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) গাজা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক ডক্টর মুনির আল-বুরশ এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক ভিডিও বার্তায় ডক্টর মুনির আল-বুরশ সতর্ক করে জানিয়েছেন যে, আগে থেকে প্রাপ্ত স্বল্প পরিমাণ ডিজেল দিয়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলো কোনোমতে চালু রাখা হলেও নতুন এই সিদ্ধান্তের কারণে অঞ্চলটি এক গভীর সংকটের মুখে পড়বে।
পৃথক একটি পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন যে, ‘জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ হওয়া মানে কেবল জেনারেটর বন্ধ হয়ে যাওয়াই নয়; এর ফলে অস্ত্রোপচার কক্ষ এবং নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রগুলো বন্ধ হয়ে যাবে, ভেন্টিলেটর এবং অক্সিজেন ব্যবস্থা অকার্যকর হবে ও ইনকিউবেটরে থাকা নবজাতক, ডায়ালিসিস রোগী, আহত এবং জটিল রোগীদের জীবন চরম ঝুঁকিতে পড়বে।’
তিনি আরও জানিয়েছেন, এই সিদ্ধান্তের কারণে অ্যাম্বুলেন্স সেবা ও ওষুধ এবং টিকার কোল্ড চেইন ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়বে। এটি কোনো সাময়িক জ্বালানি সংকট নয়, বরং হাসপাতালগুলোকে পূর্ণাঙ্গভাবে বন্ধ করে দেওয়ার ও রোগীদের প্রতিরোধযোগ্য মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়ার একটি পরিকল্পনাও।
ডক্টর মুনির আল-বুরশ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, আন্তর্জাতিক দাতা গোষ্ঠী ও বিশ্ব সম্প্রদায়কে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বানও জানিয়েছেন।
তবে ডিজেল সরবরাহ বন্ধের এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডাব্লিউএইচও) পক্ষ হতে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্যও পাওয়া যায়নি। তথ্যসূত্র: আল জাজিরা।
>>>>>>>>>>>>>>
ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org