The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

পা সেলাই মেশিনে কাজ করলে নারীদের কী ক্ষতি হতে পারে?

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ অনেক নারী দীর্ঘ সময় ধরে সেলাই মেশিনে বসে কাজ করেন। ঘরে বসে কাপড় তৈরি করা থেকে শুরু করে পেশাগতভাবে দর্জির কাজ- বিভিন্ন ক্ষেত্রেই প্রতিদিন কয়েক ঘণ্টা একই ভঙ্গিতে বসে থাকতে হয়।

পা সেলাই মেশিনে কাজ করলে নারীদের কী ক্ষতি হতে পারে? 1

সেলাইয়ের কাজ নিজে ক্ষতিকর নয়; তবে দীর্ঘ সময় একই অবস্থানে বসে থাকা, মেশিনের প্যাডেলে একই পা দিয়ে বারবার চাপ দেওয়া ও টেবিল-চেয়ারের উচ্চতা ঠিক না থাকলে শরীরে বিভিন্ন ধরনের অস্বস্তিও তৈরি হতে পারে।

দীর্ঘ সময় বসে কাজ করার কারণে প্রথমেই কোমর এবং পিঠে ব্যথা দেখা দিতে পারে। অনেক সময় কাজের সুবিধার জন্য সামনের দিকে ঝুঁকে থাকতে হয়। এভাবে দীর্ঘ সময় থাকলে ঘাড়, কাঁধ এবং পিঠের পেশিতে টান পড়তে পারে। একইসঙ্গে পা দিয়ে মেশিনের প্যাডেল বারবার চালানোর কারণে পায়ের পেশি এবং গোড়ালিতেও ক্লান্তি দেখা দিতে পারে।

বিশেষ করে যারা প্রতিদিন দীর্ঘ সময় কাজ করেন, তাদের ক্ষেত্রে পায়ের নিচের অংশে ব্যথা, ঝিনঝিনি কিংবা অবশভাব হতে পারে। তবে এইসব উপসর্গকে শুধু সেলাই মেশিন ব্যবহারের কারণে হচ্ছে বলে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। বসার ভঙ্গি, পূর্বের কোনো শারীরিক সমস্যা, অতিরিক্ত ওজন, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা বা অন্য কারণও থাকতে পারে।

আরেকটি বিষয় হচ্ছে চোখের ওপর চাপ। সেলাইয়ের সময় ছোট সুতা, কাপড়ের নকশা কিংবা সূক্ষ্ম অংশ দেখতে দীর্ঘ সময় মনোযোগ দিতে হয়। পর্যাপ্ত আলো না থাকলেও চোখ ক্লান্ত হতে পারে, মাথাব্যথা কিংবা চোখে অস্বস্তি তৈরি হতে পারে।

ঝুঁকি কমাতে সেলাইয়ের টেবিল এবং চেয়ার এমন উচ্চতায় রাখা উচিত যাতে অতিরিক্ত ঝুঁকে কাজ করতে না হয়। পা রাখার জায়গা আরামদায়ক হওয়া দরকার। সম্ভব হলে প্রতি ৩০–৬০ মিনিট পর কয়েক মিনিটের জন্য উঠে দাঁড়িয়ে হাঁটা, পা সোজা করা ও কাঁধ-ঘাড় নড়াচড়া করা ভালো। দীর্ঘ সময় বসে থাকার বদলে নিয়মিত বিরতি নেওয়া শরীরের ওপর চাপ কমাতে পারে।

কাজের জায়গায় পর্যাপ্ত আলো থাকা জরুরি। মেশিনের প্যাডেল ব্যবহারের সময় পায়ের অবস্থান স্বাভাবিক রাখা ও অপ্রয়োজনীয় জোরে চাপ না দেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ।

এই ব্যথা যদি বারবার ফিরে আসে, ক্রমশ বাড়তেই থাকে, বা পায়ে দুর্বলতা, দীর্ঘস্থায়ী অবশভাব বা হাঁটতে সমস্যা হয়, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কাজের ধরণ পরিবর্তন, সঠিকভাবে বসার ব্যবস্থা ও নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রম অনেক ক্ষেত্রে সমস্যা কমাতে সাহায্যও করতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও দৈনন্দিন কাজের পাশাপাশি নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রম এবং পেশি শক্তিবর্ধক ব্যায়ামের ওপরেও গুরুত্ব দেয়।

>>>>>>>>>>>>>>

ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে

মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।

লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-

১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।

২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।

সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-

১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।

২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।

৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।

৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।

৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।

৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।

৭. ত্বকে র‌্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।

রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :

১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।

২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।

এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

অপরদিকে

জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:

১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।

২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।

৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।

৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।

৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।

৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।

৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।

৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

bn_BDBengali