দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ দূরত্ব যেনো প্রিয়জনদের সঙ্গে যোগাযোগে বাধা না হয়, সে লক্ষ্যে ‘কথা বলা শুক্রবারে ফ্রি’ নামে নতুন একটি উদ্যোগ নিয়েছে দেশের শীর্ষস্থানীয় ডিজিটাল অপারেটর বাংলালিংক।

দেশজুড়ে যেকোনো প্রিপেইড কিংবা পোস্টপেইড বাংলালিংক গ্রাহক সাত বা ৩০ দিন মেয়াদি যেকোনো ডেটা প্যাক বা বান্ডেল কিনলে ডেটা ব্যালেন্স থেকে কোনো খরচ ছাড়াই ইমোতে ভয়েস এবং ভিডিও কল করতে পারবেন। কেনা ডেটা প্যাক বা বান্ডেলের মেয়াদ থাকা পর্যন্ত প্রতি শুক্রবার এ সুবিধা পাওয়া যাবে।
বিদেশে থাকা নিজেদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ভয়েস ও ভিডিও কলে কথা বলতে ইমো ব্যবহার করেন বাংলাদেশের অনেক গ্রাহক। এই বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে গ্রাহকদের জন্য বিনামূল্যে ইমো ব্যবহার করার সুযোগ করে দিচ্ছে বাংলালিংক।
বাংলাদেশিদের জন্য শুক্রবার শুধু ছুটির দিন নয়, এ দিন পরিবারের সদস্যদের একসঙ্গে সময় কাটানো এবং খাওয়াদাওয়ার দিন। লাখো বাংলাদেশি এবং প্রবাসী কর্মীর জন্য বিদেশে থাকা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রেও শুক্রবার বিশেষ একটি দিন।
‘কাস্টমার-ফার্স্ট’ দর্শনে বিশ্বাসী একটি অপারেটর হিসেবে এই উদ্যোগের মাধ্যমে গ্রাহকদের ডেটা খরচের চিন্তা কমিয়ে প্রিয়জনদের সঙ্গে নির্বিঘ্ন যোগাযোগ নিশ্চিত করছে বাংলালিংক।
এই উদ্যোগ সম্পর্কে বাংলালিংকের চিফ মার্কেটিং অফিসার (সিএমও) কাজী মাহবুব হাসান বলেন,“পরিবারের কাছ থেকে হাজার মাইল দূরে থাকা সহজ নয়। প্রবাসী কর্মীদের পরিবারগুলো প্রিয়জন দূরে থাকায় যে গভীর আবেগ অনুভব করে, সে দূরত্ব সহজে দূর করা সম্ভব নয়। তবে একটি ‘পিপল-ফার্স্ট’ ব্র্যান্ড হিসেবে আমাদের লক্ষ্য সবসময় গ্রাহকের পাশে থাকা।”
তিনি আরও বলেন,“বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্য শুক্রবার একটি পবিত্র দিন। বাংলালিংক বিশ্বাস করে, কানেক্টিভিটির মাধ্যমে শারীরিক দূরত্বের কারণে সৃষ্ট প্রভাব কমানো যায়। পরিবারের সকল সদস্য মিলে উদযাপনের দিনটিতে সকলকে আরও কাছে রাখার একটি প্রয়াস এই উদ্যোগ।”
‘কথা বলা শুক্রবারে ফ্রি’ অফারের জন্য আলাদা করে কোনো নিবন্ধন করতে হবে না। এর জন্য বাড়তি কোনো খরচও নেই। যে কোনো সাত বা ৩০ দিন মেয়াদি ডেটা প্যাক কিংবা বান্ডেল কিনলে বা নবায়ন করলেই এই সুবিধা পাওয়া যাবে। মাইবিএল অ্যাপ, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস), ইউএসএসডি কোড কিংবা প্রচলিত রিটেইল চ্যানেলের মাধ্যমে এইসব প্যাক কেনা যাবে।
খবর সংবাদ বিজ্ঞপ্তির।
>>>>>>>>>>>>>>
ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org