দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ থাইল্যান্ডের ঘন জঙ্গলে এমন একটি ফুলের সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা, যেটিকে সাধারণ ফুলের সঙ্গে তুলনা করাই কঠিন। ফুলটির না আছে পাতা, না আছে ডালপালা, এমনকি এর শরীরে নেই সবুজ রং তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় ক্লোরোফিল।

জীবনের বেশির ভাগ সময়ই এটি মাটির নিচে কিংবা শুকনো পাতার স্তরের আড়ালে কাটায়। আর এই অদ্ভুত চেহারার কারণেই নতুন প্রজাতিটির নাম দেওয়া হয়েছে Thismia daemona, যার পরিচিত নাম ‘ডেভিল ফ্লাওয়ার’ কিংবা ‘শয়তানের ফুল’।
সম্প্রতি থাইল্যান্ডের পশ্চিমাঞ্চলের Thong Pha Phum National Park-এ এই উদ্ভিদটির সন্ধান পাওয়া যায়। প্রথম দেখায় এটিকে প্রচলিত কোনো ফুলের মতো মনে হয় না। এর গাঢ় কালচে চেহারা এবং অদ্ভুত শিংয়ের মতো গঠন গবেষকদের নজর কেড়ে নেয়। পরবর্তী পর্যবেক্ষণ এবং বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যায়, এটি Thismia গণের একটি নতুন প্রজাতি। এই গণের উদ্ভিদগুলোকে অনেক সময় ‘ফেরি ল্যান্টার্ন’ নামেও ডাকা হয়।
এই ফুলের সবচেয়ে অবাক করা বৈশিষ্ট্য হচ্ছে- এটি অন্য সাধারণ উদ্ভিদের মতো সূর্যের আলো ব্যবহার করে খাদ্য তৈরি করে না। কারণ এর শরীরে ক্লোরোফিল নেই। সাধারণ গাছপালা সূর্যের আলো, পানি এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড ব্যবহার করে সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে নিজেদের খাবার তৈরি করে। তবে Thismia daemona সেই পথ অনুসরণ করে না।
এর পরিবর্তে উদ্ভিদটি মাটির নিচে থাকা ছত্রাকের সঙ্গে বিশেষ ধরনের সম্পর্ক তৈরি করে। ছত্রাক মাটির জৈব পদার্থ থেকে পুষ্টি সংগ্রহ করে ও এই উদ্ভিদ সেই ছত্রাকের সঙ্গে সম্পর্কের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পুষ্টি পায়। অর্থাৎ বাইরে থেকে দেখতে একটি ছোট ফুল হলেও এর বেঁচে থাকার কৌশল সম্পূর্ণ পৃথক।
আরও বিস্ময়কর বিষয় হচ্ছে, উদ্ভিদটির বেশির ভাগ জীবনচক্র মানুষের চোখের আড়ালেই কাটে। মাটির নিচে থাকার কারণে বছরের অধিকাংশ সময় এটি সহজে শনাক্ত করা যায় না। কেবল ফুল ফোটার সময় এর উপস্থিতি কিছুটা বোঝা সম্ভব হয়।
বিজ্ঞানীদের জন্য এমন উদ্ভিদের সন্ধান শুধু একটি নতুন ফুল আবিষ্কারের ঘটনা নয়। এটি প্রমাণ করে, পৃথিবীর পরিচিত বনাঞ্চলেও এখনও এমন জীব রয়েছে যাদের জীবনযাপন সম্পর্কে আমরা খুব কম জানি। বিশেষ করে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ক্রান্তীয় বনাঞ্চল জীববৈচিত্র্যের দিক থেকে অত্যন্ত সমৃদ্ধ। তবে বন উজাড়, ভূমির ব্যবহার পরিবর্তন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এইসব অদ্ভুত উদ্ভিদের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়তে পারে।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, গবেষকদের হাতে থাকা তথ্য অনুযায়ী এই নতুন প্রজাতির পরিচিত সংখ্যা অত্যন্ত কম-প্রতিবেদনে ৫০টিরও কম উদ্ভিদের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। যে কারণে এটি আবিষ্কারের পরপরই সংরক্ষণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এই ‘শয়তানের ফুল’ তাই শুধু প্রকৃতির বিচিত্রতার গল্প নয়। এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়- পৃথিবীর মাটির নিচে, অন্ধকার জঙ্গলে বা শুকনো পাতার স্তরের আড়ালে এমন অনেক প্রাণ এবং উদ্ভিদ লুকিয়ে থাকতে পারে, যাদের সম্পর্কে মানুষ এখনও কিছুই জানে না।
>>>>>>>>>>>>>>
ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org