৯ জুলাই টেন্ডার ॥ পদ্মার ভাঙ্গনে দিশেহারা সাঁড়ার মানুষ

পদ্মার ভাঙ্গনে দিশেহারা হয়ে পড়েছে ঈশ্বরদী উপজেলার সাঁড়া ইউনিয়নের মানুষ। ভয়াবহ ভাঙ্গনের আশংকায় এলাকাবাসী আতঙ্কিত। তবে স্থানীয় সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শরীফ ডিলু জানিয়েছেন, জরুরিভিত্তিতে ৪২ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৯ জুলাই টেন্ডার।

Sara-ishurdi

এলাকাবাসী ও ইউনিয়ন পরিষদ সূত্রে জানা যায়, গতবছর ভাঙ্গন মৌসুমে সাঁড়া ইউনিয়নের কোমরপুর, আড়মবাড়িয়া, শেখের চক, গোপালপুর, মাজদিয়া, ছোটপাড়া, বড়পাড়া, সাঁড়া, পালিদহ গ্রামের চার শতাধিক বাড়িঘর এবং এসব এলাকার ৮টি মসজিদ, ৪টি মন্দির, ২টি গোরস্থান, ১টি শ্মশান ঘাটসহ ১০ কিলোমিটার এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। সমপ্রতি সরেজমিনে সাঁড়ার ভাঙ্গন এলাকা ঘুরে জানা যায়, বর্তমানে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় সাঁড়ার প্রাচীনতম আড়মবাড়িয়া গ্রামসহ সাঁড়া পুরো ইউনিয়ন এখন হুমকির মুখে।

ঈশ্বরদী শহর থেকে খুব নিকটে অবস্থিত সাঁড়া ইউনিয়ন। এটি একটি ইউনিয়ন হলেও ঈশ্বরদী পৌর এলাকা থেকে খুব বেশি দূরে নয়। অথচ এই সাঁড়া ঘাটে নদী ভাঙ্গনে শত শত ঘর বাড়ি বিলিন হয়ে যাচ্ছে। মনে হচ্ছে দেখার কেও নেই।

সাঁড়া ইউনিয়নের লোক সংখ্যা মাত্র ৩০ হাজারের মতো। সাঁড়া ঈশ্বরদী উপজেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ ইউনিয়ন। ঐতিহ্যবাহী এই সাঁড়া ইউনিয়নটি আজ পদ্মার কড়াল গ্রাসে বিলিন হতে চলেছে। হাজার হাজার ঘর বাড়ি ইতিমধ্যে বিলিন হয়ে গেছে। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো শুষ্ক মৌসুমে কোনদিন নদী ভাঙ্গে এমন ইতিহাস নেই। অথচ সাঁড়া নদী ভাঙ্গন সেই নিয়মকেও হার মানিয়েছে। এই শুষ্ক মৌসুমেও নদী ভাঙ্গন অব্যাহত থাকে। প্রতিনিয়ত ঘরবাড়ি, স্কুল-কলেজ ভেঙ্গে নদী গর্ভে বিলিন হয়ে যাচ্ছে। এভাবে ভাঙ্গন অব্যাহত থাকলে শুধু সাঁড়া নয়, ঈশ্বরদী শহরও হুমকির মধ্যে পড়বে। কারণ ঈশ্বরদী শহর থেকে সাঁড়া ঘাটের নদী ভাঙ্গন এলাকা বেশি দূরে নয়। ভাঙ্গনের ফলে এখানকার শুধু ঘরবাড়ি নয়, স্কুল কলেজ, মসজিদ-মাদ্রাসা কোন কিছুই যেনো এই কড়াল গ্রাসের থাবা থেকে রেহায় পাচ্ছে না। এ যাবত ১২শ’ মানুষের ঘর-বাড়ি নদীগর্ভে বিলিন হয়েছে। এদের মধ্যে ২শ’ হিন্দু পরিবার রয়েছে বলে জানা যায়।

পিয়ারপুর, মাঝদিয়া এলাকা নদী ভাঙ্গন এলাকার একেবারে সন্নিকটে। যে কারণে এই নদী ভাঙ্গন শুধু সাঁড়া ইউনিয়ন নয়, পুরো ঈশ্বরদীর ভবিষ্যত নির্ভর করছে। ঈশ্বরদীকে জেলা করার যে দাবি সেই দাবির ক্ষেত্রে এক বড় অন্তরায় হয়ে দেখা দেবে এই নদী ভাঙ্গন। তাই ঈশ্বরদীবাসী মনে করে সাঁড়ার ভাঙ্গন রোধ করা আজ বড় চ্যালেঞ্জ। যেভাবেই হোক এই নদী ভাঙ্গন রোধ করতেই হবে।

তবে এখানে একটি আশার কথা হলো স্থানীয় সাংসদ শামসুর রহমান শরীফ ডিলুর প্রচেষ্টা। তিনি এই নদী ভাঙ্গন রোধে ইতিমধ্যে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে আবেদন নিবেদন করেছেন ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য। ইতিমধ্যে অনেক দূর এগিয়েও গেছে। তিনি জানান, যত শীঘ্রই সম্ভব নদী ভাঙ্গন রোধে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করা যাবে।

শামসুর রহমান শরীফ ডিলু এমপি আরও বলেন, আমি আমার সাধ্যমতো চেষ্টা করে যাচ্ছি। নদী ভাঙ্গন রোধ আমরা করবোই। তিনি বলেন, এ ব্যাপারে একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। নদী ভাঙ্গনের ব্যাপারে সরকারের উচ্চ পর্যায় পর্যন্ত অবগত রয়েছে। এটি পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে হয়ে এই প্রকল্প একনেক যায়। তারপর যত দ্রুত এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করার কথা বিবেচনায় এনে তা পাস করা হয়। তিনি আরও বলেন, যেহেতু এটি একটি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয় তাই অগ্রাধীকার ভিত্তিতে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এটি বাস্তবায়নে ২২০ কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে ৪২ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আগামী মাসের ৯ তারিখে টেন্ডার আহ্বান করা হবে এবং দ্রুততম সময়ে এর কাজ শুরু হবে।

আমরা আশা করি নদী ভাঙ্গন রোধে যে প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে তা দ্রুত বাস্তবায়ন করে সাঁড়াকে রক্ষা করতে হবে। পদ্মার কড়াল গ্রাস থেকে সাঁড়াকে রক্ষা করতে না পারলে ঈশ্বরদী শহর যেমন হুমকির মধ্যে পড়বে তেমনি অত্র অঞ্চলের উন্নয়নও বাধাগ্রস্থ হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সাঁড়ার ভাঙ্গন রোধে প্রয়োনজীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে এলাকার শত শত ঘর-বাড়ি ও হাজার হাজার মানুষের সহায় সম্বল রক্ষা করতে সক্ষম হবেন।

Advertisements
Loading...