যাদের খোঁজ মেলেনি আজও

দি ঢাকা টাইমস্‌ ডেস্ক ॥ বিশ্বের সংক্ষিপ্ত সংবাদ নিয়ে শুক্রবারের আয়োজনে সকলকে স্বাগতম। আজকেও বিশ্বের বিভিন্ন ধরনের সংবাদ রয়েছে আপনাদের জন্য। সাপ্তাহিক এই আয়োজন নিশ্চয়ই আপনাদের ভালো লাগবে।

যাদের খোঁজ মেলেনি আজওঃ

পার্সি ফশেট ১৯২৫

ব্রাজিলের জঙ্গলে ‘লুকানো স্বর্ণের শহর’ খুঁজতে ১৯২৫ সালে সদলবলে বের হন ব্রিটিশ কর্নেল পার্সি ফশেট। সঙ্গে ছিলেন তার বড় ছেলে জ্যাক এবং বন্ধু র‌্যালে রিমেল। তারপরই উধাও হয়ে যান তিনজন। তাদের খুঁজতে গভীর জঙ্গলে অনেক দল গেছে। সেসব অভিযানেও বিভিন্ন সময়ে শতাধিক মানুষও মারা যায়। ব্রাজিলের জঙ্গল থেকে পার্সি ফশেট-এর ব্যবহূত কিছু জিনিসপত্র উদ্ধার হলেও কোন খোঁজ মেলেনি পার্সি ফশেট ও তার দুই সঙ্গীর।

জন ক্যাবট ১৪৯৯

ইউরোপ থেকে এশিয়ায় আসতে পশ্চিমের সমুদ্রপথের সন্ধানে বেরিয়েছিলেন বিখ্যাত অভিযাত্রী জন ক্যাবট। ১৪৯৯ সালের এই অভিযানে তার সঙ্গে ছিল কাঠের তৈরি পাঁচটি জাহাজ। প্রতিটির দৈর্ঘ্য ছিল ১০০ ফুট। কিন’ অভিযানে বের হবার পর জন ক্যাবট বা অন্য অভিযাত্রীদের আর সন্ধান মেলেনি। নিখোঁজ হওয়ার দুই বছর আগে ১৪৯৭ সালে ইউরোপের দ্বিতীয় অভিযাত্রী হিসেবে উত্তর আমেরিকায় পা ফেলেছিলেন জন ক্যাবট। এমনকি তার জাহাজের ধ্বংসাবশেষ বা অন্য অভিযাত্রীদের লাশ পর্যন্ত আর পাওয়া যায়নি। ধারণা করা হয় প্রবল কোন ঝড়ে বা আইসবার্গে ধাক্কা লেগে সব জাহাজ ধ্বংস হয়ে সবাই মারা যান। কেও কেও সন্দেহ করেন মারাত্মক কোন অসুখে মারা যান একে একে সবাই। সন্দেহ যাই হোক, ছয়শ বছর পরও নিশ্চিত হওয়া যায়নি কি ঘটেছিল বিখ্যাত অভিযাত্রী জন ক্যাবট বা তার সঙ্গীদের ভাগ্যে।

লাল দুর্গ

১৪শ শতাব্দীতে রাজকীয় গ্রানাডার মুরিশদের শাসনামলে নির্মিত আল হামরা দুর্গটির নামের অর্থ লাল দুর্গ। দুর্গটি স্পেনের গ্রানাডা শহরের দক্ষিণ-পূর্ব দিকে অবসি’ত। আল হামরার মুরিশ প্রাসাদটি নার্শিদ শাসক কর্তৃক স্পেনের সর্বশেষ মুসলিম আমিরদের জন্য নির্মিত হয়। ১৪৯২ সালে ক্যাথলিক সম্রাটদের স্পেন পুনঃবিজয়ের পর দুর্গটির কিছু অংশ খ্রিস্টান শাসকগণ ব্যবহার করেন। ১৫২৭ সালে রোমান সম্রাট ৫ম চার্লস দুর্গটির ভেতর একটি প্রাসাদ নির্মাণ করেন। এরপর ১৯শ শতাব্দীতে শত বছর ধরে অযত্নে অবহেলায় পড়ে থাকা দুর্গটি ইউরোপিয়ান পতিত ও পর্যটক কর্তৃক আবিষ্কৃত হওয়ার পর পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া শুরু হয়। ইসলামিক স’াপত্য, ১৬শ শতাব্দী পরবর্তী খ্রিস্টান দালান ও বাগানসহ দুর্গটি স্পেনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত।

টিম্বুকতু

পশ্চিম আফ্রিকার মালির নাইজার নদীর ১৫ কিলোমিটার উত্তরে ও সাহারা মরুভূমির দক্ষিণ কোনায় টিম্বুকতুর অবস’ান। মালির আটটি প্রশাসনিক এলাকার একটি হল টিম্বুকতু। প্রাকৃতিকভাবে ভূ-পত্তন হওয়ার পর ১২শ খ্রিস্টাব্দে এটি স’ায়ী জায়গা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৩ শতকের প্রথম দিকে এখানে লবণ, স্বর্ণ, হাতির দাঁত ও ক্রীতদাস বাণিজ্য হত। ১৪৬৮ সালে সংঘাই সম্রাট শহরটি দখলে নেওয়ার আগ পর্যন্ত টুয়ারেগ উপজাতীয়দের দখলে ছিল। ১৫৯১ সালে মরক্কোর সেনাবাহিনী সংঘাই সম্রাটে পরাজিত করে শহর দখল করে এবং নাম রাখে টিম্বুকতু এবং আর্মা নামক জাতির পত্তন করে। ১৮৯৩ সালে ফরাসিরা টিম্বুকতু দায়িত্ব তুলে নেওয়ার আগ পর্যন- বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন উপজাতীয় গোষ্ঠী শহরটি পরিচালনা করে। ১৯৬০ সালে টিম্বুকতু বর্তমান মালির অন-র্গত হয়।

Advertisements
আপনি এটাও পছন্দ করতে পারেন
Loading...