দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ সকালে নাস্তা খাওয়ার কিছু নিয়মকানুন রয়েছে। সেগুলো মেনে না চললে রোগবালাই জাঁকিয়ে বসতে পারে। সকালে কোন ভুলগুলো তাহলে এড়িয়ে চলবেন?

পুষ্টিবিদরা বলেছেন, সকালের নাস্তায় সব সময় পুষ্টিকর খাবার খাওয়া উচিত। যদি দিনের শুরুতেই পেট ভর্তি থাকে, তাহলে শরীর এনার্জি পাবে। তবে সকালে শুধু পেট ভরে খেলেই হবে না। সকালে নাস্তা খাওয়ার কিছু নিয়মকানুন রয়েছে। সেগুলো মেনে না চললে রোগবালাই জাঁকিয়ে বসতে পারে। তাহলে সকালে কোন ভুলগুলো আপনি এড়িয়ে চলবেন?
প্রোটিন কম খাওয়া
সকালের নাস্তায় বেশি করে প্রোটিন খাওয়া জরুরি। তাই সকালের খাবারে প্রোটিন বেশি রাখাটা দরকার। তবে প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবারের পরিবর্তে অন্য কিছু খেতে পারেন। তাতেই শরীরে প্রোটিনের ঘাটতি তৈরি হয়। আবার পেটও দীর্ঘক্ষণ ভর্তি থাকবে। ঘন ঘন খিদেও পায় না।
কম খাওয়া
প্রাপ্তবয়স্কদের খাবার খাওয়ার নির্দিষ্ট একটা পরিমাণ রয়েছে। তাড়াহুড়ো করে অনেকেই কম খেয়ে চলে যান। তাতে শরীরে পর্যাপ্ত উপাদানের ঘাটতিও থেকে যায়। এতে বিপাক ক্রিয়ার উপরে প্রভাব পড়ে। আর তখন শরীর পুষ্টি পায়। শরীরও চনমনে থাকে। আবার ওজনও বৃদ্ধি পায়।
সময়ে না খাওয়া
সুস্থ থাকতে হলে শুধু পর্যাপ্ত খাবার খেলে চলবে না, খাবার খেতে হবে সময়মতো। ঘড়ি ধরে খাবার খাওয়ার অভ্যাস আয়ত্তে না আনলে মুশকিলও হতে পারে। সময়ে খেয়ে নেওয়ার বহু সুফল রয়েছে। এতে করে শরীর সুস্থ থাকে। ওজনও নিয়ন্ত্রণে থাকে। এমনকি ভিতর থেকে শরীর সুস্থ থাকে। তথ্যসূত্র: এই সময়।
>>>>>>>>>>>>>>
ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org