দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ ভারতের জনপ্রিয় টেলিভিশন গেম শো ‘কৌন বনেগা ক্রোড়পতি’ এর নাম শুনলেই আগেই ভেসে ওঠে বলিউড শাহেনশাহ অমিতাভ বচ্চনের নাম। এই শো’য়ের যাত্রা হয় কিংবদন্তি অভিনেতা অমিতাভ বচ্চনের হাত ধরে।

গত শুক্রবার (২ জানুয়ারি) সম্প্রচারিত হয় কেবিসি সিজন ১৭-এর গ্র্যান্ড ফিনালে। আবেগঘন এই পর্বে শুধু দর্শকরাই নন, শেষ মুহূর্তে আবেগ সামলাতে পারেননি সঞ্চালক অমিতাভ বচ্চন নিজেও। চোখে পানিতে তিনি বিদায় জানান এই সিজনকে।
অনুষ্ঠানে কথা বলতে গিয়ে অমিতাভ জানিয়েছেন, কেবিসির সঙ্গে তার জীবনের একটি বিশাল অংশই জড়িয়ে রয়েছে।
এই দীর্ঘ পথচলাতে যাদের অবদান সবচেয়ে বেশি, সেই দর্শকদের প্রতিই বারবার কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন তিনি। অনুষ্ঠানের শুরুতেই দর্শকদের উদ্দেশে অমিতাভ বচ্চন বলেন, ‘আপনাদের সঙ্গে আমি আমার জীবনের এক তৃতীয়াংশ সময়ই কাটিয়েছি। এটা আমার জন্য অত্যন্ত সৌভাগ্যের একটি বিষয়।’ দীর্ঘ অভিনয়জীবন এবং কেবিসির স্মৃতি রোমন্থন করতে গিয়ে আরও আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন অমিতাভ।
অভিনেতার ভাষায়, ‘শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এই যাত্রায় আপনারাই ছিলেন আমার সঙ্গী। এই সিজনের শেষপ্রান্তে এসে শুধু এটুকুই বলতে চাই যে, আপনারা থাকলে এই শো থাকবে, আর এই শো থাকলে আমিও থাকবো। আপনাদের সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ।’
গ্র্যান্ড ফিনালে সম্প্রচারের পর সোশ্যাল মিডিয়াতে আবেগে ভাসেন দর্শকরাও। কেও কেও পুরনো স্মৃতি রোমন্থন করে লেখেন, কেবিসির সঙ্গে তাদের বন্ধুত্ব দীর্ঘদিনের।
>>>>>>>>>>>>>>
ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org