দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ ক্যান্সার বর্তমান সময়ের একটি ভয়াবহ ও জীবনঘাতী রোগ। জীবনযাপন পদ্ধতি, খাদ্যাভ্যাস এবং পরিবেশগত নানা কারণে ক্যান্সারের ঝুঁকি দিন দিন বাড়ছে।

যদিও ক্যান্সার সম্পূর্ণভাবে প্রতিরোধ করা সব সময় সম্ভব নয়, তবে সঠিক খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করলে এই রোগের ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো যেতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু নির্দিষ্ট খাবার নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে এবং ক্যান্সার সৃষ্টিকারী কোষের বিরুদ্ধে শরীর লড়াই করার শক্তি পায়।
শাকসবজি
উল্লেখযোগ্য হলো শাকসবজি, বিশেষ করে সবুজ ও রঙিন সবজি। ব্রকলি, ফুলকপি, বাঁধাকপি, পালং শাক, গাজর ও টমেটোতে রয়েছে শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ফাইটোকেমিক্যাল, যা শরীরের ক্ষতিকর ফ্রি র্যাডিক্যাল ধ্বংস করতে সাহায্য করে। এসব উপাদান ক্যান্সার কোষের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি রোধে ভূমিকা রাখে।
ফলমূল
ফলমূল ক্যান্সার প্রতিরোধে অত্যন্ত উপকারী। বেরিজাতীয় ফল যেমন স্ট্রবেরি, ব্লুবেরি, কালোজাম ও আঙুরে রয়েছে অ্যান্থোসায়ানিন ও ভিটামিন সি, যা কোষের ক্ষতি কমায়। এছাড়া পেয়ারা, কমলা, লেবু ও পেঁপের মতো ফল শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে।
ডাল ও শস্যজাত খাবার
ডাল ও শস্যজাত খাবার ক্যান্সার ঝুঁকি কমাতে সহায়ক। মসুর ডাল, ছোলা, মুগ ডাল এবং পূর্ণশস্য যেমন ওটস, ব্রাউন রাইস ও লাল চাল ফাইবারসমৃদ্ধ। খাদ্যআঁশ অন্ত্র পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে এবং কোলন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়।
মাছ ও স্বাস্থ্যকর চর্বিযুক্ত খাবার
মাছ ও স্বাস্থ্যকর চর্বিযুক্ত খাবার ক্যান্সার প্রতিরোধে ভূমিকা রাখে। সামুদ্রিক মাছ যেমন ইলিশ, স্যামন ও সার্ডিনে থাকা ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড শরীরের প্রদাহ কমায়, যা ক্যান্সার সৃষ্টির একটি বড় কারণ। এছাড়া বাদাম, আখরোট ও অলিভ অয়েলে থাকা ভালো ফ্যাট কোষের স্বাস্থ্য রক্ষা করে।
মসলা ও ভেষজ খাবার
মসলা ও ভেষজ খাবারও উপকারী। হলুদে থাকা কারকিউমিন উপাদান ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধি রোধে কার্যকর বলে বিভিন্ন গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে। আদা ও রসুন শরীরকে ডিটক্সিফাই করতে সহায়তা করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়ক খাবারগুলো কোনো ওষুধ নয়, বরং এগুলো একটি স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের অংশ। নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ, পর্যাপ্ত পানি পান, ব্যায়াম ও ক্ষতিকর অভ্যাস পরিহার করলে ক্যান্সারের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। সুষম খাদ্যাভ্যাসই সুস্থ এবং নিরাপদ জীবনের অন্যতম প্রধান ভিত্তি।
>>>>>>>>>>>>>>
ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org