দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ বর্তমানে বিশ্বজুড়ে কমবয়সি পুরুষদের মধ্যে কিছু নির্দিষ্ট ধরনের ক্যান্সারের ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এর মধ্যে অণ্ডকোষের ক্যান্সার বা টেস্টিকুলার ক্যান্সার তুলনামূলকভাবে বিরল হলেও ১৫ থেকে ৪০ বছর বয়সী পুরুষদের মধ্যে এটি বেশি দেখা যেতে পারে।

শুরুতেই রোগটি ধরা পড়লে চিকিৎসার মাধ্যমে সম্পূর্ণ সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে। তবে সমস্যা হলো, অনেকেই প্রাথমিক লক্ষণগুলো গুরুত্ব দেন না বা বুঝতে পারেন না।
অণ্ডকোষের ক্যান্সারের সবচেয়ে সাধারণ লক্ষণ হলো অণ্ডকোষে কোনো শক্ত গাঁট বা অস্বাভাবিক ফোলা অনুভব করা। এটি সাধারণত ব্যথাহীন হয়, তাই অনেকেই শুরুতে গুরুত্ব দেন না। ধীরে ধীরে গাঁটটি বড় হতে পারে বা অণ্ডকোষের আকারে পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। তাই নিজে নিজে নিয়মিত পরীক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ।
আরেকটি লক্ষণ হলো অণ্ডকোষে ভারী বা অস্বস্তিকর অনুভূতি। অনেক সময় তলপেট বা কুঁচকির দিকে হালকা ব্যথা বা টান টান ভাব দেখা দিতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে হঠাৎ তরল জমে অণ্ডকোষ ফুলে যেতে পারে।
স্তনের অংশে অস্বাভাবিক পরিবর্তনও একটি সতর্ক সংকেত হতে পারে। কিছু রোগীর ক্ষেত্রে হরমোন পরিবর্তনের কারণে স্তন সামান্য বড় বা সংবেদনশীল হয়ে যেতে পারে।
এ ছাড়াও শরীরে অস্বাভাবিক ক্লান্তি, ওজন কমে যাওয়া বা পিঠের নিচের দিকে ব্যথাও দেখা দিতে পারে, বিশেষ করে যদি রোগটি ছড়িয়ে পড়ে। তবে এসব লক্ষণ সাধারণত পরবর্তী পর্যায়ে দেখা যায়।
চিকিৎসকদের মতে, নিজের শরীর সম্পর্কে সচেতন থাকা এই রোগ শনাক্তের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপায়। মাসে একবার গরম পানির পরে অণ্ডকোষ হাত দিয়ে পরীক্ষা করা যেতে পারে। কোনো শক্ত গাঁট, আকার পরিবর্তন বা অস্বাভাবিক কিছু অনুভব হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
অণ্ডকোষের ক্যান্সার কেন হয়, তার নির্দিষ্ট কারণ পুরোপুরি জানা না গেলেও কিছু ঝুঁকির বিষয় রয়েছে। যেমন জন্মগতভাবে অণ্ডকোষ নিচে না নামা (ক্রিপ্টোর্কিডিজম), পারিবারিক ইতিহাস, বা অতীতে কোনো ধরনের টেস্টিকুলার সমস্যা থাকা।
ভালো খবর হলো, এটি অন্যতম সফলভাবে চিকিৎসাযোগ্য ক্যান্সারগুলোর একটি, বিশেষ করে যদি শুরুতেই শনাক্ত করা যায়। সার্জারি, কেমোথেরাপি বা রেডিওথেরাপির মাধ্যমে বেশিরভাগ রোগী সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠেন।
কমবয়সি পুরুষদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সচেতনতা। শরীরে ছোট পরিবর্তনকেও অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জীবন বাঁচাতে পারে। নিয়মিত নিজের শরীর পরীক্ষা ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এই ধরনের ঝুঁকি অনেকটাই কমাতে সাহায্য করে।
>>>>>>>>>>>>>>
ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org