দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ জনপ্রিয়তার দিক থেকে অবশ্যই একে-অন্যকে রীতিমতো পাল্লা দেয়- সেটিই স্বাভাবিক। তবে স্বাস্থ্যসচেতনরা কিন্তু বুঝেই উঠতে পারেন না, হাঁস নাকি মুরগির কুসুম শরীরের জন্য বেশি ভালো।

হাঁস নাকি মুরগি, উপকারিতার দিক থেকে কীসের কুসুম এগিয়ে রয়েছে, সেটা নিয়েও তর্কের যেনো শেষ নেই। জনপ্রিয়তার দিক থেকে অবশ্য একে-অপরকে রীতিমতো পাল্লা দেয়- সেটিই স্বাভাবিক। তবে স্বাস্থ্যসচেতনরা বুঝেই উঠতে পারেন না, হাঁস নাকি মুরগির কুসুম শরীরের জন্য বেশি ভালো।
এ সম্পর্কে পুষ্টিবিদ অর্পিতা দেবরায় বলেছেন, ‘হাঁস ও মুরগির ডিমে উপকারিতার দিক থেকে বিশেষ কোনো ফারাক নেই। তবে হাঁসের ডিমে ‘ট্রিপ্টোফ্যানোমিটার’-এর পরিমাণ একটু বেশি। এই উপাদান শরীরের জন্য বিশেষ একটা ভালো নয়। কারণ হজমের গোলমালও হতে পারে। ‘ট্রিপ্টোফ্যানোমিটার’-এর প্রোটিন সহজে ভাঙতেও পারে না, ঠিকঠাক হজমও হয় না। তাই হাঁসের ডিম বেশিক্ষণ ধরে সেদ্ধ করতে হবে। ২০-২৫ মিনিট সেদ্ধ করলে তখন ট্রিপ্টোফ্যানোমিটার নিস্ক্রিয় হয়ে যায়। অপরদিকে মুরগির ডিমে এই উপাদান কম থাকে। তাই বেশি সময় ধরে সেদ্ধ না করলেও চলে।’ এটাও ঠিক যে, হাঁস এবং মুরগির ডিমের মধ্যে উপকারিতায় বিস্তর ফারাক নেই। গবেষণা জানাচ্ছে যে, উভয় ডিমেই সেলেনিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, আয়রণ, ক্যালশিয়াম, ফসফরাস, নিয়াসিন, রাইবোফ্লোভিন, ফোলেট, প্যান্টোথেনিক অ্যাসিড, ভিটামিন বি৬, ভিটামিন ডি, ভিটামিন ই, ভিটামিন এ থাকে। তবে ফ্যাট ও এনার্জির পরিমাণের দিক থেকে খানিকটা তফাত অবশ্য রয়েছে।’
সাধারণত ১০০ গ্রামে হাঁসের ডিমে এনার্জি থাকে ১৮৫ ক্যালোরি। অপর দিকে মুরগির ডিমে রয়েছে ১৪৯ ক্যালোরি। আবার ১০০ গ্রাম হাঁসের ডিমে স্যাচুরেটেড ফ্যাট ৩.৬৮ গ্রাম রয়েছে। মুরগির ডিমে স্যাচুরেটেড ফ্যাটের পরিমাণ ৩.১ গ্রাম।
পুষ্টিবিদরা জানিয়েছেন, কেও যদি কখনও হাই প্রোটিন ডায়েট করতে চান, তাহলে হাঁসের ডিমও খেতে পারেন। তবে হার্টের সমস্যা, কোলেস্টেরল, ইউরিক অ্যাসিড থাকলে কুসুমের পরিবর্তে ডিমের সাদা অংশ খাওয়াটা জরুরি। তথ্যসূত্র: এই সময়।
>>>>>>>>>>>>>>
ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে
মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।
লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর
২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।
সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-
১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।
২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।
৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।
৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।
৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।
৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
৭. ত্বকে র্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।
রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :
১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।
এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
অপরদিকে
জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:
১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।
২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।
৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।
৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।
৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।
৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।
৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।
৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org