The Dhaka Times
তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে রাখার প্রত্যয়ে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক ম্যাগাজিন।

ডায়েট করেও ওজন না কমলে করণীয় কী?

দি ঢাকা টাইমস্ ডেস্ক ॥ ওজন কমানোর জন্য অনেকেই কঠোর ডায়েট অনুসরণ করেন, কিন্তু তারপরও কাঙ্ক্ষিত ফল না পেলে হতাশ হয়ে পড়েন।

ডায়েট করেও ওজন না কমলে করণীয় কী? 1

বাস্তবে ওজন কমা বা না কমা শুধু খাবারের পরিমাণের ওপর নির্ভর করে না; বরং এটি একটি সামগ্রিক প্রক্রিয়া, যেখানে খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক কার্যকলাপ, ঘুম এবং হরমোনের ভারসাম্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই ডায়েট করেও ওজন না কমলে কয়েকটি বিষয় পুনর্বিবেচনা করা জরুরি।

প্রথমেই দেখা উচিত দৈনিক ক্যালরি গ্রহণ ও ব্যয়। অনেক সময় স্বাস্থ্যকর খাবার খেলেও অতিরিক্ত ক্যালরি গ্রহণ হয়ে যায়। যেমন বাদাম, তেল, ভাত বা ফল- সবই পুষ্টিকর হলেও বেশি খেলে ক্যালরি বেড়ে যায়। তাই সঠিক পরিমাণে খাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শরীরের মেটাবলিজম ধীর হলে ক্যালরি পোড়ানোর হার কমে যায়, ফলে ওজন কমতে দেরি হয়।

দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ব্যায়ামের অভাব। শুধু ডায়েট করে ওজন কমানো অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। নিয়মিত হাঁটা, দৌড়ানো বা অ্যারোবিক ব্যায়াম করলে শরীর বেশি ক্যালরি ব্যবহার করে। বিশেষ করে শক্তি ব্যায়াম (strength training) পেশি গঠনে সাহায্য করে, যা দীর্ঘমেয়াদে মেটাবলিজম বাড়ায়।

ঘুমের মান ও সময়ও ওজন নিয়ন্ত্রণে বড় ভূমিকা রাখে। কম ঘুম বা অনিয়মিত ঘুম হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে, যা ক্ষুধা বাড়িয়ে দেয় এবং অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা তৈরি করে। প্রতিদিন ৭–৮ ঘণ্টা মানসম্মত ঘুম ওজন কমাতে সহায়ক।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো স্ট্রেস বা মানসিক চাপ। অতিরিক্ত চাপের কারণে শরীরে কর্টিসল হরমোন বেড়ে যায়, যা চর্বি জমাতে সাহায্য করে, বিশেষ করে পেটের চারপাশে। তাই যোগব্যায়াম, ধ্যান বা শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করতে পারে।

অনেক সময় হরমোনজনিত সমস্যাও ওজন কমার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। যেমন থাইরয়েডের সমস্যা বা পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম (PCOS) থাকলে ওজন কমা কঠিন হয়ে যায়। এমন ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

এ ছাড়াও পানির অভাব, অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়া এবং অনিয়মিত খাবার গ্রহণও ওজন না কমার কারণ হতে পারে। পর্যাপ্ত পানি পান এবং প্রাকৃতিক খাবার গ্রহণ এই সমস্যার সমাধানে সাহায্য করে।

ডায়েট করেও ওজন না কমলে হতাশ না হয়ে পুরো জীবনযাপন পদ্ধতি বিশ্লেষণ করা উচিত। সঠিক খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম এবং মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন একসঙ্গে নিলে তবেই দীর্ঘমেয়াদে সফলভাবে ওজন নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

>>>>>>>>>>>>>>

ডেঙ্গু প্রতিরোধ করবেন যেভাবে

মশা বাহিত একপ্রকার ভাইরাস জ্বর হলো ডেঙ্গু। এই জ্বর অন্যান্য ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়াজনিত জ্বর থেকে ভিন্ন। অবশ্য এই জ্বর কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। এই ভাইরাস জ্বর এককভাবে বা অন্যান্য ভাইরাস (চিকুনগুনিয়া, ইয়েলো ফিভার, বার্মা ফরেস্ট, ফ্লু, রেসপাইরেটরি সিনসাইটিয়াল) এবং ব্যাকটেরিয়া (নিউমোক্কাস)-এর সঙ্গেও হতে পারে।

লক্ষণ ও জ্বরের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে ডেঙ্গুজ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে-

১. সাধারণ ডেঙ্গুজ্বর।

২. রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বর।

সাধারণ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে চোখে পড়ে মূলত নিচের এই লক্ষণগুলো-

১. হঠাৎ করে তীব্র জ্বর ও তা ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হওয়া।

২. তীব্র মাথাব্যথা হওয়া।

৩. চোখের পেছনের অংশে ব্যথা হওয়া।

৪. জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি চোখে পড়া।

৫. সম্পূর্ণ শরীরে তীব্র ব্যথা ও সেইসঙ্গে কোমরে ব্যথা।

৬. বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।

৭. ত্বকে র‌্যাশ বা লাল দানা দানা দেখা দেওয়া।

রক্তপাতসহ ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে :

১. ২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তীব্র জ্বর সঙ্গে নাক, মুখ বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া।

২. জ্বরের পাশাপাশি বুকে বা পেটে পানি জমে যাওয়া।

এইসব লক্ষণের যে কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

অপরদিকে

জ্বরের প্রথম ৩ দিন বাড়িতে অপেক্ষা করুন। অপরদিকে সারা শরীর পানি দিয়ে স্পঞ্জ করুন কিছুক্ষণ পরপর। এতে করে জ্বরের মাত্রা কমে আসবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান ও বিশ্রাম নিতে হবে। এরপরেও জ্বর না কমলে বা কিছু সময় পরপর বাড়তে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়:

১. বাড়ির আশপাশ যতোটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুন।

২. ঘরের ভেতরে থাকা ফুলের টব বা ভাঙা প্লাস্টিকের বোতল, ডাবের খোসা, টায়ার অথবা পলিথিন থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলুন ও ফুলের টব থেকে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করুন।

৩. মশা নিধনের জন্য সপ্তাহে অন্তত ৩ বার স্প্রে বা ফগিং করুন।

৪. বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মশা নিধনে ব্যবহৃত ক্রিম সঙ্গে রাখতে পারেন।

৫. সন্ধ্যার পর বাড়ির ছোট থেকে বড় সদস্যরা মশারি ব্যবহার করুন।

৬. যেখানে-সেখানে জমে থাকা বৃষ্টির পানি পরিষ্কার করে ফেলুন, কারণ এতে এডিস মশা ডিম পেড়ে থাকে এই সময়।

৭. অপরদিকে মশার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মশারির সঙ্গে সঙ্গে ম্যাট ব্যবহার করতে পারেন।

৮. এডিস মশা যেহেতু দিনের বেলা কামড়ায় তাই দিনের বেলায় ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সূত্র: https://dmpnews.org

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো
Loading...
bn_BDBengali